ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ছুটিতে দুই ধর্মীয় স্থাপনায় ভিড়, বেহাল সড়কে নাকাল ভক্তরা

ছুটিতে দুই ধর্মীয় স্থাপনায় ভিড়, বেহাল সড়কে নাকাল ভক্তরা
×

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০৮:২০ | আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ | ০৯:৩৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বড় দুই ধর্মীয় স্থাপনা অদ্বৈত বাড়ির মন্দির বা শাহ্‌ আরেফিন (র.) আস্তানায় এবারের ঈদের ছুটিতে ঢল নেমেছে ভক্ত-আশেকানদের। তবে বেহাল সড়কের কারণে যাতায়াতে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। ভাড়াও গুনতে হয়েছে দ্বিগুণ। অপচয় হয়েছে সময়ও।

জানা গেছে, সরকার এই পথের কষ্ট কমাতে দুই বছর আগে ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করলেও যথাসময়ে এই কাজ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ঠিকাদার ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে এমন ভোগান্তি বলে জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

নোয়াগাঁওয়ের কালীবাড়ি এলাকা থেকে ৯০ জন ভক্ত নিয়ে বাসে গত রোববার রাতে এসে সুনামগঞ্জে পৌঁছান রনি কুমার সরকার। শহরের একটি মন্দিরে রাত কাটান তারা। সোমবার সকালে তাহিরপুরের যাদুকাটার পাড়ের শ্রী শ্রী অদ্বৈত মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। অদ্বৈত মন্দিরে যাবার পথ শহরের আব্দুজ জহুর সেতু থেকে কারেন্টের বাজার হয়ে ধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের সড়ক দিয়ে হলেও সেটি ব্যবহার করতে পারেননি তারা।

রণি কুমার সরকার বলেন, তাদের বহনকারী দুটি বাস সুনামগঞ্জ শহরের নতুন বাসস্টেশন এলাকায় রাখা হয়। রাতে মন্দিরে থেকে সকালে যাবার সময় লেগুনার সঙ্গে কথা বললে, তারা জানায় অদ্বৈত বাড়ি বা শাহ্‌ আরেফিন (র.) আস্তানায় যেতে হলে ৯ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হবে। ভাড়া ১২শ’ টাকার জায়গায় চাইছে আড়াই হাজার টাকা। পরে বাধ্য হয়ে সেভাবেই পথে পথে ঝাঁকুনি খেয়ে কোনোভাবে অদ্বৈত মন্দিরে পৌঁছান তারা। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন এই সড়কের দুটি সেতু ও কালভার্টে কাজ চলছে। বিকল্প সড়ক করে দেওয়ার কথা থাকলেও, সেটি হয়নি। আর সেজন্যই এই কষ্ট ভক্ত-আশেকানদের। রাজশাহীর সুফল দাসও ৫৫ জন ভক্ত নিয়ে রোববার রাতে সুনামগঞ্জে পৌঁছে একই বেকায়দায় পড়েন।

ঈদের লম্বা ছুটিতে প্রতিদিনই এভাবে ভোগান্তি সইতে সইতে সীমান্তের এই দুই ধর্মীয় স্থানে গিয়েছেন হাজারো মানুষ।

অদ্বৈত মন্দির কমিটির সভাপতি করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, গেল চৈত্র মাসে যাদুকাটা নদীতে গঙ্গা স্নান ও শাহ্‌ আরেফিন (র.)’র ওরসের আগে ঠিকাদারকে চলাচলের উপযোগী বিকল্প সড়ক করে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকও নির্দেশ দিয়েছিলেন। দরপত্রে বিকল্প সড়কের উল্লেখ থাকলেও তারা দায়সারা কাজ করে রাখে, এ কারণে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। নামকাওয়াস্তে করা এই বিকল্প সড়কের কোনো চিহ্নই এখন নেই। এ কারণে এই পথে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। লোকজনকে নয় কিলোমিটারের পথ ১৮ কিলোমিটার ঘুরে ভাঙাচোরা-খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়ে পাড়ি দিতে হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মানা যায় না। একই ধরনের মন্তব্য করলেন, মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কানন বন্ধু রায়।

রাজাগাঁওয়ের বাসিন্দা অদ্বৈত রায় বলেন, সুনামগঞ্জ থেকে মধ্যনগরমুখী সড়ক এটি। এই সড়কের যাদুকাটার সেতুর গার্ডার কয়েক দফায় ভেঙে পড়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। সড়কের বিশ্বম্ভরপুরের শেষ সীমানা থেকে-যাদুকাটা  সেতুমুখী সড়ক অংশের চরগাঁও গ্রামের পাশের দুটি সেতু এবং একটি কালভার্টেও কাজ এমনভাবে করা হয়েছে যে, কেউ পায়ে হেটেও যেতে পারবে না, নৌকাও চলবে না। এখানকার লামাশ্রম, রাজারগাঁও, জাঙ্গালহাটি, লাউড়েরগড়, পুটিয়া, পুরানগাঁওসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষও চলাচল কষ্টে পড়েছে।

স্থানীয় বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, ঠিকাদার বা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কেউই এলাকাবাসীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ভক্ত-অনুরাগীদের কষ্ট আমলে নিচ্ছে না। বার বার তাগাদা দিচ্ছেন, তারা শুনছেন না কোনো কথাই। ঈদের লম্বা ছুটিতে অদ্বৈত বাড়ি, যাদুকাটার ইসকন মন্দির এবং শাহ্‌ আরেফিন (র.) আস্তানায় বহু কষ্টে এসেছেন ভক্ত-আশেকানরা। বিষয়টি সকল কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তারা রীতিমতো বিব্রত আগত অতিথিদের সামনে। এই সড়কে ৫৬ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ দুই বছর আগে শুরু হয়েছে। দুই বছরে কাজ যেটুকু আগানোর কথা এর অর্ধেকও হয়নি।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কে কাজ শুরু হয়েছিল। এখানে দুটি সেতু, ১৪টি বক্স কালভার্ট হওয়ার কথা। কাজও শুরু হয়েছে। এখানে কিছু গাছ ছিল । এগুলো কর্তন করতে বেশ কিছু  সময় লেগেছে। এ জন্য তিন বছর মেয়াদি এই কাজের সময় হয়তো আরও এক বছর বাড়াতে হবে। সেই সময়কালে সেতু দুটিতে এবং কালভার্ট এলাকায় ভালোভাবে বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। বিকল্প সড়ক ছিল, বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো ঠিক করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে দ্রুতই।

আরও পড়ুন

×