গলা পানিতে ধান, কাটতেই যাচ্ছে ফসলের ৪০ শতাংশ
ঢলের পানিতে ডুবে গেছে ধানের ক্ষেত। গলাসমান পানিতে নেমে ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন কৃষক। তাড়াশের মাকড়শোন গ্রাম সমকাল
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৫ | আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ | ১২:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
ধান পেকেছে মাঠে। কিন্তু কৃষকের মুখে হাসি নেই। খাল-বিলে গলাসমান পানি। সেই পানিতে নেমে ধান কাটছেন শ্রমিকরা। কাঁধে বোঝা তুলে খাল পার করে ধান নিতে হচ্ছে বাড়িতে। কোথাও শুকনো উঠান নেই, পৌঁছতে পারছে না ধান কাটার যন্ত্র।
চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন এমন দুর্ভোগের মধ্যেই চলছে নাবী জাতের বোরো ধান কাটার মৌসুম। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সগুনা, মাগুড়া বিনোদ, বারুহাঁস ও নওগাঁ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চলে গত কয়েক দিনে পানি বাড়াতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত কৃষক ও কৃষিশ্রমিক।
স্থানীয় কৃষিশ্রমিক আব্দুল বারিক বলেন, ধান কাটার পর গলাসমান পানি মাড়িয়ে বোঝা নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে। এতে যেমন কষ্ট হচ্ছে, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, খাল ও নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটার পর তা বাড়িতে আনা, মাড়াই, সংরক্ষণ–সব কিছুতেই বাড়তি খরচ এবং দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কুন্দইল গ্রামের কৃষক মাহাতাব তালুকদার জানান, বর্তমানে বিলাঞ্চলের এক বিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিকদের ধানের চার ভাগের এক ভাগ দিতে হচ্ছে। আবার যন্ত্র দিয়ে ধান কাটতে বিঘাপ্রতি তিন হাজার থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। শ্রমিক দিয়ে কাটালে খরচ দাঁড়াচ্ছে ৯ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর সঙ্গে মাড়াই খরচও যোগ হচ্ছে। তিনি বলেন, ধান কাটা, পরিবহন ও মাড়াই বাবদ মোট উৎপাদিত ধানের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। ফলে কৃষকের লাভের অংশ অনেকটাই কমে যাচ্ছে।
কুশাবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, ঈদের পর ধান কাটার মৌসুম শুরু হতে উত্তরের ঢলে অনেক খাল-বিল পানিতে ভরে যায়। এতে ধান কাটার যন্ত্র জমি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না। শ্রমিকরা ধান কাটলেও বোঝা বাঁধার মতো শুকনো জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।
ধামাইচ এলাকার কৃষিশ্রমিক আয়নাল হক বলেন, ধান কাটার প্রতিটি ধাপে এখন বাড়তি কষ্ট করতে হচ্ছে। এজন্য শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তাড়াশে ২৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে নাবী জাতের ধান চাষ করা হয়। সরিষা কাটার পর দেরিতে রোপণ করায় এসব ধানও দেরিতে পেকেছে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা বলেন, নাবী জাতের ধান কাটতে খরচ কিছুটা বেশি হলেও এবার ফলন ভালো হয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়েও কৃষক লাভবান হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি দ্রুত পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেন।
