জমি-পুকুর লিখে নেওয়ার পর বৃদ্ধ বাবা-মাকে নির্যাতনের অভিযোগ
প্রতিকারের দাবিতে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ
সংগৃহীত
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ১৮:১৬
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে জমি ও পুকুর নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভরণপোষণ না করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক ছানোয়ার হোসেন মণ্ডল (৬৮)।
ছানোয়ার হোসেন ও তাঁর স্ত্রী মতিজান নেছা উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের কুসুম্বী গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত ছেলে মো. আব্দুল মানিক মণ্ডল (৩১)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে বৃদ্ধ দম্পতিকে তাড়াশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যান মানিক। সেখানে তাদের জমি ও পুকুর নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকেই বাবা-মায়ের প্রতি অবহেলা ও নির্যাতন শুরু হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ছেলে ও পুত্রবধূ নিয়মিত ভরণপোষণ দেন না। খাবার ও চিকিৎসার খরচও বহন করেন না। এমনকি বিভিন্ন সময় বৃদ্ধ দম্পতিকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘সম্পত্তি লিখে দেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই ছেলে ও পুত্রবধূর আচরণ বদলে যায়। এখন প্রায়ই আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে, মারধরও করে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে মতিজান নেছা বলেন, ‘এই বয়সে কাজ করতে পারি না। যা পাই, তা দিয়ে কোনোভাবে দিন কাটাই। ছেলে-বউয়ের নির্যাতনে জীবনটা অসহনীয় হয়ে উঠেছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাজিব সরকার রাজু বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। কিন্তু মানিক মণ্ডল কোনো সিদ্ধান্তই মানছেন না।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মানিক মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘আমি একেবারেই ভরণপোষণ দেই না-এ কথা ঠিক নয়। বাবা স্বেচ্ছায় জমি ও পুকুর আমার নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। নির্যাতনের অভিযোগও সত্য নয়।’
তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এ জেড এম নাহিদ হোসেন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
