চাঁদা না পেয়ে দোকানে হামলা ভাঙচুর যুবদল নেতার
মুদি দোকানে হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৭:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে স্থানীয় যুবদল নেতাকে চাঁদা না দেওয়ায় একটি দোকানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দোকানি সালাউদ্দিন মিয়া গতকাল বুধবার বিকেলে আড়াইহাজার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পুরিন্দা বাজারে সালাউদ্দিন মিয়ার দোকানে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক রিপন ও তাঁর সহযোগীরা হামলা চালান।
দোকানে হামলা ভাঙচুরের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। এরপর জিয়াউল হক রিপনকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে যুবদল।
ভুক্তভোগী দোকানি সালাউদ্দিন মিয়া জানান, পুরিন্দা বাজারে তাঁর বাবা শাহজাহান মিয়ার একটি মার্কেট রয়েছে। এই মার্কেটেই তিনি একটি মুদি দোকান চালান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন যুবদল নেতা জিয়াউল হক রিপন পুরিন্দা বাজারে দাপট দেখানো শুরু করেন। বিভিন্ন অজুহাতে রিপন তাঁর কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছেন। এর মধ্যে দোকান থেকে তিনি আড়াই লাখ টাকার জিনিসপত্র নিয়ে দাম পরিশোধ করছেন না। গত মঙ্গলবার রাতে রিপন ফের দোকানে সদাই নিতে আসেন। তখন বকেয়া টাকা চাইলে তিনি উল্টো ১১ লাখ টাকা পাওনা আছে বলে দাবি করেন। এক পর্যায়ে দলবল নিয়ে তিনি দোকানে হামলা চালান। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান এবং তাঁকে (ভুক্তভোগী দোকানি) ভেতরে আটকে রেখে বাইরে থেকে দোকানের সাটার নামিয়ে দেন। পরে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে দোকান খোলা হয়।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
চাঁদাবাজির বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট উল্লেখ করে সাতগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক রিপন জানান, তিনি একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ছিলেন। সালাউদ্দিন তাঁকে ভালোবেসে ধর্মের ভাই ডাকতেন। ভাই হিসেবে তাঁকে দোকান ভালোভাবে পরিচালনার জন্য তিনি দুই দফায় পাঁচ লাখ করে ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন।
এই টাকার থেকে তিনি ইতোমধ্যে দুই লাখ টাকার মতো ফেরত দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাওনা টাকা চাইলে সালাউদ্দিন ধারলো অস্ত্র দেখান।
দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি
যুবদল নেতা রিপনের নেতৃত্বে দোকানে হামলা ভাঙচুরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দলের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাতগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক রিপনের দলীয় সব পদ স্থগিত করা হয়েছে।
আড়াইহাজার যুবদলের দপ্তর সম্পাদক সাদেকুর রহমান সাদেক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম ও সদস্য সচিব খোরশেদ আলম ভূইয়ার অনুমতিক্রমে জিয়াউল হক রিপনের জাতীয়তাবাদী যুবদলের পদ স্থগিত করা হলো এবং সংগঠনের সব প্রকার কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হলো। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
জমি দখল ও ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায় জমি দখল, সশস্ত্র হামলা ও দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা। গতকাল বুধবার দুপুরে সাইনবোর্ড ট্রেড সেন্টার অফিসে ১১ জন জমির মালিকের পক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।
এ সময় ভুক্তভোগীরা অভিযুক্ত কাজী আব্দুস সাত্তারকে ভূমিদস্যু আখ্যা দিয়ে তাঁর অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। জমি মালিকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মো. মেহেদী হাসান, শাহিন মিয়া, শাহনাজ পারভীন, আবু সায়েদ শিপন প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকদের পক্ষে আবু ছায়েদ শিপন লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাইনবোর্ড এলাকার খোর্দঘোষপাড়া মৌজায় তারা ১১ জন মিলে ৮২.১৭ শতাংশ জমি কিনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন। এর মধ্যে একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য ৪ শতাংশ জমি রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত কাজী আব্দুস সাত্তার আগে সরকারি জায়গা লিজ নিয়ে ওই এলাকায় চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশন চালাতেন। সড়ক প্রস্তকরণ কাজের জন্য সরকার সেটি উচ্ছেদ করলে মানবিক কারণে তাঁর মেশিনারিজ সাময়িকভাবে ভুক্তভোগীদের জমিতে রাখার অনুরোধ জানান। প্রতিবেশীর বিপদে জমির মালিকরা এতে সম্মতি দেন। কিন্তু পরে মেশিনারিজ সরিয়ে নিতে বললে তিনি টালবাহানা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ওই জমির মালিকানা দাবি করে বসেন।
গত ২৭ মে জমির মালিকরা তাদের জায়গায় কাজ করতে গেলে সাত্তার ও তার সশস্ত্র দলবল তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয় এবং ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। হামলাকারীরা সীমানার টিনশেড ভাঙচুর করে নিয়ে যায় এবং বেশ কয়েকজনকে আহত করে। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযুক্ত কাজী আব্দুস সাত্তার তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, সংবাদ সম্মেলনকারীরা আগে থানা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ব্যবহার করেছে আর এখন থানা বিএনপির এক নেতাকে ব্যবহার করে আমার জমি দখল করে রেখেছে। আমিও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতেু জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনা তাই এটা আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন। আমরা উভয়পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বলেছি।
- বিষয় :
- চাঁদা
