মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সীতাকুণ্ডে ভাঙা হচ্ছে না জাহাজ ‘মেমেই’, ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ১০:২৭
চট্টগ্রামে ভাঙার উদ্দেশ্যে আনা ‘মেমেই’ নামের একটি কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করায় সেটি আর সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে নেওয়া হচ্ছে না। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জাহাজটি মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
জাহাজটি গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে নোঙর করে। পরে সীতাকুণ্ডের একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য নেওয়ার কথা ছিল। তবে ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) ‘মেমেই’ জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে।
জানা গেছে, প্রায় ৬১ কোটি টাকা মূল্যের জাহাজটি আমদানি করেছিল এসএন কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এবং ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘ডিসকো শওকত’ নামে পরিচিত।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য না দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল। এ অভিযোগের ভিত্তিতে জাহাজটির নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। একই মালিকানাধীন ‘ফ্লোরা’ নামের আরেকটি জাহাজের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, পালাউ পতাকাবাহী ‘মেমেই’ (আইএমও: ৯১৩৩০৮২) একটি ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার রাসায়নিক ও তেলবাহী ট্যাংকার। ১৯৯৭ সালে নির্মিত জাহাজটির লাইট ডিসপ্লেসমেন্ট টনেজ (এলডিটি) ৯ হাজার ৮৭৭ দশমিক ১ টন, দৈর্ঘ্য ১৮০ মিটার এবং প্রস্থ ৩২ দশমিক ২ মিটার।
ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের মার্কিন নীতির অংশ হিসেবে নির্বাহী আদেশ ১৩৮৪৬-এর আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
- বিষয় :
- জাহাজ
