ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

চাকরি নয়, খামারেই সাফল্য

চাকরি নয়, খামারেই সাফল্য
×

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মশিউর রহমান খামার গড়ে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন এলাকার যুবকদের কাছে। সম্প্রতি মৌলভীপাড়া গ্রামে হাঁস নিয়ে ফিরছিলেন তিনি   -সমকাল

রংপুর অফিস

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরির পেছনে না ছুটে নিজস্ব উদ্যোগে খামার গড়ে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মৌলভীপাড়া গ্রামের মশিউর রহমান (৩৫)। ২০১০ সালে মাত্র ৮০ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে শুরু করা ছোট একটি মুরগির খামারই আজ তাঁকে এনে দিয়েছে সচ্ছলতা, আর তৈরি করেছে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ।

রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর শেষ করা মশিউর রহমানের বাবা রফিকুল ইসলাম একজন ক্ষুদ্র কৃষক। চার ভাইবোনের মধ্যে বড় মশিউর শুরু থেকেই ছিলেন স্বপ্নবাজ। চাকরি কিংবা বিদেশ যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি নিজের কিছু করার ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেন।
মশিউর জানান, বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ৯ হাজার ব্রয়লার মুরগি, ২ হাজার হাঁস, ৩৪টি ক্রস জাতের ছাগল এবং ১৪টি উন্নত জাতের দুধেল গাভি। এ ছাড়া পাঁচটি পুকুরে ৭৫ হাজার পাঙাশ মাছ চাষ করছেন। মাছ বিক্রি থেকেই মাত্র আড়াই মাসে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা আয় সম্ভব বলে জানান তিনি। সব মিলিয়ে তাঁর মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা এবং বার্ষিক আয় প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

শুরুটা সহজ ছিল না। কলেজে যাওয়ার পথে একটি মুরগির খামার দেখে আগ্রহ জন্মায় মশিউরের। পরে বাবার সহায়তায় গরু বিক্রি করে পাওয়া ৮০ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ির পাশে ছোট্ট খামার শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেই খামারই আজ বিস্তৃত হয়ে সাড়ে 
তিন একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে একটি সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তাঁর খামারে নিয়মিত কাজ করছেন ২১ জন শ্রমিক। 
খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বাজার অস্থিরতার কারণে কিছু খামারি সমস্যায় পড়লেও মশিউরের সাফল্য এখনও তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে রয়েছে। তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্তত পাঁচটি গ্রামের শতাধিক যুবক খামার গড়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। জামালপুর গ্রামের শিক্ষিত যুবক ফরমান আলী জানান, মশিউরের পরামর্শে তিনি মুরগি ও গাভির খামার করে এখন সচ্ছল জীবনযাপন করছেন। আমরুলবাড়ি পলিপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘চাকরি না পেয়ে হতাশ ছিলাম। মশিউর ভাইয়ের খামার দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেও খামার গড়ে 
তুলেছি। এখন জমি কিনেছি, বাড়ি করেছি, গরুও আছে ১৬টি।’

মশিউরের স্ত্রী সুমি খাতুন, যিনি নিজেও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী, খামার ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, ‘চাকরির চেয়ে খামার থেকেই কয়েকগুণ বেশি আয় হচ্ছে। ধৈর্য আর পরিশ্রম থাকলে সফল হওয়া সম্ভব।’
মশিউর বলেন, ‘চাকরি করলে হয়তো শুধু নিজেরই চলত, কিন্তু এই খামারের মাধ্যমে ২১টি পরিবারের জীবিকা নিশ্চিত করতে পারছি; এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।’
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা জানান, মশিউর রহমান ২০২৪ সালে উপজেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষি হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। অন্যদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র রায় বলেন, মশিউরের এই সাফল্য এলাকার অন্য খামারিদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

×