ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ঘরবন্দি বাবা, স্ত্রীর জানাজায়ও যেতে দিল না ছেলে

ঘরবন্দি বাবা, স্ত্রীর জানাজায়ও যেতে দিল না ছেলে
×

 রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিন বছর ধরে এক বাবাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বড় ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অসুস্থ স্ত্রী মাহমুদা বেগমের মৃত্যু হলেও তাঁকে জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর স্ত্রীর কবর জিয়ারত করার সুযোগ পান আব্দুল জলিল (৭৫)।
এ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের নাককাটি গ্রামে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল ও মাহমুদা বেগম দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ (৪৫) কৃষিকাজ করেন এবং ছোট ছেলে মোস্তফা (৩৫) বরগুনায় শিক্ষকতা করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ছোট ছেলে কর্মস্থলে থাকার সুযোগে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ প্রায় ১৪ একর জমি বাবার কাছ থেকে নিজের নামে লিখে নেন। এরপর থেকেই আব্দুল জলিলকে কার্যত ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে মাহমুদা বেগমের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তাঁর মেয়েরা। প্রথমে রংপুরে চিকিৎসা এবং পরে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে মেয়ের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে গত ৩ জুন রাতে তিনি মারা যান।

স্বজনদের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বিভিন্নভাবে বাধা দেন। একই সঙ্গে তিনি তাঁর বাবাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন, যাতে তিনি স্ত্রীর শেষ বিদায়ে অংশ নিতে না পারেন। খবর পেয়ে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশীদ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কফিল উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।
ওসি মামুনুর রশীদের উদ্যোগে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে অবস্থানরত আব্দুল জলিলকে বাইরে আনা হয়। পরে তিনি ছোট ছেলে মোস্তফাকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীর কবর জিয়ারত করেন। তখন উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে আব্দুল মোন্নাফ বলেন, মা মারা যাওয়ার পর বোন-ভগ্নিপতিসহ এলাকার কিছু লোক হামলা করবে বলে প্রচার করে। এ কারণে বাবা জানাজায় অংশ নেননি।
থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পারিবারিক বিরোধের সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×