ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় হাওরপারের বাসিন্দারা

জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় হাওরপারের বাসিন্দারা
×

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

হাওর-বাঁওড়বেষ্টিত জেলা হবিগঞ্জ। এই জেলার বেশির ভাগ মানুষই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত, বিশেষ করে হাওরপারের বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার মানুষ ধান আবাদ এবং মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় হাওরাঞ্চলের একমাত্র ফসল ধান বিনষ্ট হওয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষ জীবিকা সংকটে রয়েছেন। পাশাপাশি আগের মতো হাওরে মাছ মিলছে না। এ কারণে হাওরপারের অনেকে পেশা পরিবর্তন করছেন। জীবিকার সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হচ্ছেন অনেকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। এর মধ্যে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৪ হাজার ৬০১ হেক্টর, বানিয়াচংয়ে ৩৩ হাজার ৭০৫ হেক্টর ও লাখাইয়ে ১১ হাজার ২০৮ হেক্টর। কিন্তু বৈশাখ মাসে টানা বৃষ্টিতে ১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যায়।
কৃষকদের দাবি, বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। সরকারি হিসাবের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আবাদ করা একমাত্র ফসল বিনষ্ট হওয়ায় সারাবছরের খাদ্যের নিশ্চয়তা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অসংখ্য কৃষক। ধান ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ততা না থাকায় অনেক কৃষক এখন বাড়িতে অলস সময় পার করছেন। এদিকে হাওরে পর্যাপ্ত মাছও মিলছে না। একটা সময় হাওরে নতুন পানি আসলেই মাছ ধরার প্রতিযোগিতা চলত। অনেকে মাছ শিকার করে নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতে পারতেন। কিন্তু হাওরে এখন মাছের সংকট। এ কারণে হাওরপারের বাসিন্দাদের বিকল্প জীবিকার উৎসেও টান পড়েছে। এ কারণে বেড়েছে কর্মহীন লোকজনের সংখ্যা।
কৃষক আলতাব মিয়া বলেন, ‘আমরা কৃষক মানুষ। কৃষি কাজ করেই সংসার চালাই। এবার হাওরে ১২ বিঘা জমিতে বোরে আবাদ করেছিলাম। দুই বিঘা জমি কোনোরকম ঘরে তুলতে পারলেও ১০ বিঘাই চলে গেছে পানির নিচে। তাই এখন সংসার চালানোর জন্য আমাকে বিকল্প কর্ম (কাজ) খুঁজতে হচ্ছে।’

হাওরপার এলাকার অন্য কৃষক ছালেক মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তাঁর পাঁচ বিঘা জমির সম্পূর্ণ ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে তাঁকে এখন বাধ্য হয়ে শহরে রিকশা চালাতে হচ্ছে।
জেলে হরিধন দাস বলেন, আগে হাওরে শুধু মাছ ধরেই সংসার চলত আমাদের। এখন মাছের সংকটের কারণে দৈনিক ২০০ টাকার মাছও বিক্রি করতে পারেন না। তাই বাধ্য হয়ে ছেলেকে শহরের একটি কোম্পানিতে চাকরি করার জন্য পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শুধু আমি নয়, আমার মতো আরও বহু পরিবারের সন্তানেরা এখন কর্মসংস্থানে জন্য শহরমুখী হচ্ছে।’
জেলেদের ভাষ্য, এমনিতেই হাওরের নদী-নালা, খাল-বিল ভরাট হয়ে গেছে। তারপর আবার ফসল আবাদে কীটনাশকের অবাধ ব্যবহার মাছের প্রজনন ক্ষেত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ ছাড়া চায়না জাল, কারেন্ট জাল, বেড় জালসহ নানা ধরনের সূক্ষ্ম জালের কারণেও নির্বিচারে মাছের পোনা নিধন হচ্ছে। এতে মাছের বংশবিস্তার হচ্ছে হচ্ছে না। 
হবিগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল আলম বলেন, হাওরে মাছের প্রজনন বাড়াতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি হাওরে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×