ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

হাওরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা প্রণোদনা না দেওয়ায় ক্ষোভ

হাওরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা প্রণোদনা না দেওয়ায় ক্ষোভ
×

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

হাওরে মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় এক মাসের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। গত ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত চলবে এই নিষেধাজ্ঞা। এ সময়ে ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা মাছ রক্ষায় সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে। 

তবে পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের এই উদ্যোগের সঙ্গে জেলেদের জন্য কোনো প্রণোদনা বা খাদ্য সহায়তার ঘোষণা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলে ও মাছ ধরার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। দেশের মাছ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও সরকারের এ উদ্যোগে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাওরাঞ্চলের জেলেরা।
সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট মৎস্যজীবীর সংখ্যা ১ লাখ ২১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে নিবন্ধিত রয়েছেন ৯২ হাজার ১৬৯ জন। জেলায় বছরে মাছ উৎপাদন হয় ১ লাখ ১৭৭ টন। স্থানীয় চাহিদা ৫৬ হাজার ৩৭২ টন হলেও উদ্বৃত্ত থাকে ৪৩ হাজার ৮০৫ টন মাছ। 

হাওরপারের জেলেদের অভিযোগ, মাছের প্রজনন রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও তাদের বিকল্প আয়ের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে এক মাস কর্মহীন থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। অনেক জেলে পরিবার দৈনিক মাছ বিক্রির আয়ের ওপর নির্ভরশীল। মাছ ধরা বন্ধ থাকলে পরিবারে খাদ্য সংকটসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হবেন তারা। 
উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়খলা গ্রামের বাসিন্দা মৎস্যজীবী আব্দুস সোবহান বলেন, ‘আমরা টগার হাওরে শুষ্ক মৌসুমে বোরো চাষ করি, আর বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। সরকার মাছের প্রজনন রক্ষায় আইন করেছে, এটি ভালো উদ্যোগ। তবে মাছ ধরা বন্ধ রাখার পাশাপাশি আমাদের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থাও করতে হবে। তা না হলে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে সতর্ক করা হয়েছে যে, ছোট মাছ ধরা বা বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে আমরা আরও দুশ্চিন্তায় পড়েছি। অনেক পরিবার আছে, যাদের ঘরে ধান নেই, চালও নেই। এবারে ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকলে, তাদের জীবন-জীবিকা সংকটে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে অনেককে হয়তো এলাকা ছেড়ে অন্যত্র কাজের সন্ধানে যেতে হবে।’
জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৎস্যজীবী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিভিন্ন সময় সহায়তা ও প্রণোদনা দিয়ে থাকে। ধান চাষের মৌসুমেও কৃষকরা নানা ধরনের সরকারি সুবিধা পান। কিন্তু জেলেদের জন্য তেমন কোনো সহায়তার ব্যবস্থা আমরা কখনও দেখিনি। মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এক মাসের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এটি ভালো উদ্যোগ। তবে এই সময়ে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবো, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাই নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জন্যও প্রণোদনা বা খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।’

এবারই প্রথম সরকার হাওরাঞ্চলে এই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে জানিয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আল-মিনান নূর বলেন, আমরা এই কার্যক্রম ফলপ্রসূভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে জেলায় ২২০ টন অতিরিক্ত মৎস্য উৎপাদন হবে। 

আরও পড়ুন

×