ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

কলমাকান্দা

থানায় অভিযোগের পরই পদ হারালেন বিএনপি নেতা গেদু মিয়া

থানায় অভিযোগের পরই পদ হারালেন বিএনপি নেতা গেদু মিয়া
×

গেদু মিয়া

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ১৫:৫৮

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুলিশের তথ্যদাতা এক মাওলানাকে প্রাণনাশের হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগের একদিনের মাথায় দলীয় পদ হারিয়েছেন উপজেলার খারনৈ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গেদু মিয়া। 

শনিবার (৬ জুন) রাতে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জিহাদ খান (মিতুল) স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গেদু মিয়ার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং নৈতিক অবক্ষয়জনিত কারণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে খারনৈ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবুল মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ খায়ের ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার সিদ্ধান্তক্রমে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার রাতে কলমাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলার উত্তর রানীগাঁও গ্রামের মাওলানা শফিকুল ইসলাম। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার জেরে তিনি ও তার পরিবার হুমকি-ধমকি এবং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

জানা গেছে, গত ২৯ মে রাতে মাওলানা শফিকুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলমাকান্দা থানা পুলিশ উত্তর রানীগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ বোতল ভারতীয় মদসহ দুই কিশোরকে আটক করে। এ ঘটনায় আরও একজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মামলার এক আসামি হৃদয় মিয়া খারনৈ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গেদু মিয়ার ছেলে।

অভিযানের পর থেকেই মাওলানা শফিকুল ইসলামকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক অডিও রেকর্ডে গেদু মিয়া ও তার ছেলে হৃদয় মিয়ার সঙ্গে শফিকুল ইসলামের কথোপকথন নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

অভিযোগকারী মাওলানা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে পুলিশকে তথ্য দিয়েছিলাম। এরপর থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। প্রাণনাশের আশঙ্কায় আমি বর্তমানে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছি। প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন গেদু মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে হুমকি দেইনি। একজন ‘বাটপারকে’ শাসন করার জন্য কথা বলেছি মাত্র।’

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সজল সরকার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×