ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

২০৮ একর বনভূমি উদ্ধার, বনায়নে যুক্ত হবেন স্থানীয়রা

২০৮ একর বনভূমি উদ্ধার, বনায়নে যুক্ত হবেন স্থানীয়রা
×

বন বিভাগের জমি দখল করে গরুর খামার করা হয়। পরে গুঁড়িয়ে দেয় প্রশাসন। ছবি: সমকাল

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১০:২০

দেশে বনভূমির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভূমির ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে বিপুল পরিমাণ বনভূমি। তবে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর বিটে গত তিন বছরে ২০৮ একর বনভূমি উদ্ধার করে ব্যতিক্রমী সাফল্যের নজির গড়েছেন বিট কর্মকর্তা মহসীন আলী।

ধর্মপুর বিটের মোট বনভূমি দুই হাজার ৮৩৬ একর। এর মধ্যে ৩২৫ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রভাবশালীদের দখলে ছিল। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিট কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর মহসীন আলী দখলমুক্তকরণ অভিযান শুরু করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ২০৮ একর জমি উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

উদ্ধার করা জমিতে সামাজিক বনায়নের আওতায় নতুন বন সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারাও সম্পৃক্ত হয়েছেন। বন বিভাগ জানিয়েছে, সামাজিক বনায়ন নীতিমালা অনুযায়ী গাছ কর্তনের পর আয়ের ৪৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী স্থানীয়দের দেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে এসব জমির অনেক অংশ দখলে ছিল এবং বনভূমি উজাড় হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে বন বিভাগের উদ্যোগে সেখানে নতুন করে বনায়ন করা হয়েছে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি স্থানীয়রাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে এই সাফল্যের পথ সহজ ছিল না। জমি উদ্ধারে গিয়ে একাধিকবার হামলা, হুমকি ও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে মহসীন আলীকে। কয়েক দফা হামলায় আহত হয়ে তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছে। 

ধর্মপুর বিটের কর্মচারী আমজাদ হোসেন খান বলেন, দখলদারদের প্রতিরোধের মুখে স্থানীয় জনগণ ও বন বিভাগের কর্মীরা একযোগে কাজ করেছেন। তাঁর দীর্ঘ চাকরিজীবনে এত বড় পরিসরে বনভূমি উদ্ধারের উদ্যোগ খুব কমই দেখেছেন।

বিট কর্মকর্তা মহসীন আলী বলেন, বন বিভাগের জমি উদ্ধার করতে গেলে প্রায়ই প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়। তবু স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় ধাপে ধাপে জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জমিতে বনায়নের মাধ্যমে বনভূমি পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। তিনি বলেন, দেশের বনভূমির পরিমাণ ক্রমে কমে যাচ্ছে। তাই বন রক্ষা ও সম্প্রসারণে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করেই কাজ করা হচ্ছে। সামাজিক বনায়নের সুবিধা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করায় তারা এখন বন সংরক্ষণে আগ্রহী হচ্ছে।

দিনাজপুর বন বিভাগের সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মাসুদ রানা সরকার বলেন, জনবল সংকট ও নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ধর্মপুর বিটে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বন ও বনভূমি রক্ষা করাই বিভাগের প্রধান লক্ষ্য।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফাহিম মাসউদ বলেন, জমি উদ্ধার ও বনায়ন বন বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। তবে ধর্মপুর বিটে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, মহসীন আলী দায়িত্বশীলতা ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন এবং বনভূমি রক্ষায় তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়।

আরও পড়ুন

×