ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

তনু হত্যা মামলা

দুই সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আদেশ

দুই সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আদেশ
×

ফাইল ছবি

কুমিল্লা প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ২২:১৯ | আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ | ২২:৪৬

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক সার্জেন্ট জাহিদ এবং সাবেক সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই দিন ঢাকায় সিআইডির ডিএনএ ল্যাবে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে তাকে পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম আদালতে আবেদন করে সন্দেহভাজন দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশনা চান। সেই আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ জানান, তনু হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটা এলাকায়।

অপরদিকে শাহীন আলম তৎকালীন সময়ে কুমিল্লা সেনানিবাসের ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। একটি সূত্র জানিয়েছে, শাহীন বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দুইজনই ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বলেন, হাফিজুর রহমানের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। এছাড়া তদন্তে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনায় আরও একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। এর ফলে ডিএনএ বিশ্লেষণে তনুর পোশাকে মোট চারজনের নমুনা শনাক্ত হয়েছে। পূর্বে তিনজনের শুক্রাণুর উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেলেও নতুন ব্যক্তির ক্ষেত্রে রক্তের নমুনা পাওয়া গেছে। এ চারজনের মধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন।

মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং পরবর্তীতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করলেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলার নথি সিআইডি থেকে পিবিআই সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়।

প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

×