ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বিষখালী নদীর ভাঙনে বসতভিটাসহ ২ একর জায়গা বিলীন

বিষখালী নদীর ভাঙনে বসতভিটাসহ ২ একর জায়গা বিলীন
×

ছবি: সমকাল

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ২০:৫৮

ঝালকাঠির রাজাপুরে বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনে গত কয়েক দিনে চারটি পরিবারের বসতভিটা, বাগান, ফসলি জমি ও একটি মসজিদসহ প্রায় দুই একর জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলার উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী মানকি, সুন্দর, পালট ও বড়ইয়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে এই ভাঙন চলছে। তবে কয়েক দিন পরই বর্ষাকাল শুরু হওয়ার শঙ্কায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ছে। 

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদী এখন তাদের ঘরের দোরগোড়ায় এসে ঠেকেছে। বর্তমানে ভাঙনকবলিত এলাকার কাছাকাছি থাকা প্রায় অর্ধশত পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। 

দিনমজুর সাইদুল ইসলাম জানান, গত এক মাসে তাঁর বিভিন্ন গাছের বাগানসহ প্রায় দেড় একর জমি নদী কেড়ে নিয়েছে। বর্তমানে তাঁর ঘর থেকে নদী মাত্র ১৫ গজ দূরে রয়েছে। অন্য কোথাও গিয়ে নতুন ঘর তোলার সামর্থ্যও তাঁর নেই।

আরেক দিনমজুর মন্নান হাওলাদার জানান, গত কয়েক দিন আগে তাঁর গোয়ালঘরটি নদীতে ভেঙে গেছে এবং এখন বসতঘরটি টিকবে কি না, সেই আতঙ্কে দিন কাটছে।

মাদ্রাসার সাবেক সহকারী শিক্ষক নাসির মল্লিক বলেন, ‘গত ২০ দিন আগে আমার একটি মসজিদ, মেহগনি ও সুপারি বাগানসহ প্রায় এক একর জমি এবং পাশের একটি বাজার নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন বসতঘর থেকে নদী মাত্র ৫০ ফুট দূরে।’  

আরেক ভুক্তভোগী আনসার জানান, কয়েক দিন আগে তাঁর বাড়ির আঙিনা ও বসতঘরের বারান্দা নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন খলিফা জানান, তাঁর নিজেরও প্রায় দেড় একর জমি গত এক মাসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তাঁর চোখের সামনে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। 

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় কর্মকর্তারা এসে কেবল বাঁধ নির্মাণের আশ্বাসই দিয়ে যান, বাস্তবে কোনো কাজ হয় না। এমনকি গত প্রায় ২০ দিন আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল এলাকা পরিদর্শন করে এক সপ্তাহের মধ্যে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো তার কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি জানান, ভাঙনকবলিত জায়গাগুলোর খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি ভাঙনের পেছনে একটি মানবসৃষ্ট কারণ উল্লেখ করে বলেন, নদী তীরের মাটি ইটভাটায় কেটে নিয়ে যাওয়ার কারণে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীতে এই তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনকারী এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

ঝালকাঠি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা জানান, রাজাপুর উপজেলার বিষখালী তীরবর্তী নাপিতের হাট, বাদুরতলা, মানকি-সুন্দর, বাদুরতলা দাখিল মাদ্রাসা এলাকা, পালট, দক্ষিণ পালট ও বড়ইয়া ইউনিয়নের হাফিজিয়া মাদ্রাসা এলাকাসহ মোট সাতটি স্থানে ৭ হাজার ৩৫৫ মিটার এলাকা ভাঙনকবলিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘এই স্থানগুলো সমীক্ষা করার পর একটি প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হয়ে এলেই দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’  

আরও পড়ুন

×