ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

রক্তের ক্রসম্যাচ না করেই রিপোর্ট রোগী সংকটাপন্ন

রক্তের ক্রসম্যাচ না করেই রিপোর্ট রোগী সংকটাপন্ন
×

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ০৮:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

দাতার সঙ্গে ক্রস ম্যাচ না করেই এক গৃহবধূর শরীরে রক্ত পুশ করার অভিযোগ উঠেছে নান্দাইলের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়া ওই রোগী রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিকে, ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও পরে তদন্ত না করতে আবেদন করেন গৃহবধূর স্বামী।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ওয়াহাব মিয়ার স্ত্রী তাইবা আক্তার রক্তাল্পতার রোগী। গত ৫ জুন একজন রক্তদাতা নিয়ে তিনি হক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। সেখানে টেকনোলজিস্ট দাতার রক্ত নিলেও রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেননি। ক্রসম্যাচ না করেই রিপোর্ট দিলে গৃহবধূ না জেনে তা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে চিকিৎসক রিপোর্ট দেখে রক্ত পুশ করার অনুমতি দেন। রক্ত দেওয়া শুরুর কিছুক্ষণ পর ওই গৃহবধূর শরীরে তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।  চিকিৎসক বেশ কয়েকটি ইনজেকশন পুশ করে অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল করতে সক্ষম হন। পরে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর উত্তরায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পরে ওয়াহাব মিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা সুলতানা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। তবে গত মঙ্গলবার তিনি কোনো পদক্ষেপ না নিতে আবেদন করেন। অভিযোগ উঠে, ডায়াগনস্টিকের চাপে তিনি এ অবস্থান নিয়েছেন।

ওয়াহাব মিয়া বলেন, হক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অবহেলা ও জালিয়াতির কারণে আমার স্ত্রী মরতে বসেছিল। তাই ক্ষোভে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেছিলাম। এখন তারা ভুল স্বীকার করেছে। বর্তমানে রোগীর চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত আছি। তাই আপাতত কোনো পদক্ষেপ না নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে বলেছি।
হক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আজহারুল ইসলাম বলেন, তাদের ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের গাফিলতি ছিল না। নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ডা. শামীমা বলেন, অভিযোগকারী আপাতত কোনো পদক্ষেপ না নিতে মৌখিকভাবে তাঁকে অনুরোধ করেছেন।

আরও পড়ুন

×