ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে ১১ দলের সমাবেশ

সরকারের সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে

সরকারের সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে
×

ছবি: সমকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো 

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৮ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ | ১১:২৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে পরিস্থিতি ভালো হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ভালোয় ভালোয় দাবি মেনে নিন। আমাদের সুড়সুড়ি দেবেন না। যারা ফাঁসিকে খুশি মনে মেনে নেয়, তারা ভয় পায় না। দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে তারা বারবার জেলে যেতে এবং জীবন দিতে প্রস্তুত। মনে রাখবেন, জেলের তালা বা চাবিওয়ালা কোনোটিই স্থায়ী নয়। তালা পরিবর্তন হয়, চাবি পরিবর্তন হয়। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গণরায়ের বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। 

শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার যদি গণভোটের রায় বা জনদাবি স্বেচ্ছায় মেনে না নেয়, তবে শেষ পর্যন্ত ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। ১৯৯৬ সালে নিজেরাই যেভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল এনে পাস করাতে বাধ্য হয়েছিল, এবারও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তা করতে বাধ্য হবেন। ভালোয় ভালোয় মেনে নিন। জনগণকে রাজপথে ঠেলে দেবেন না।’ সরকার দাবি মেনে নিলে চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ করতে হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনি কথা দিয়েছিলেন সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের টুঁটি চেপে ধরবেন। সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু আপনি এটাকে জাতীয়করণ করেছেন।’ 

কক্সবাজারে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে আপনারা একজন সর্ববিষয় বিশারদ মন্ত্রী পেয়েছেন, যিনি একাই সব মন্ত্রণালয় চালান। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কথাও তাঁকে বলতে হয়। আমার একটু কষ্ট লাগে প্রধানমন্ত্রীর জন্য। তিনি বিভিন্ন জেলায় গিয়ে ভুলভাল তথ্য দিচ্ছেন। এমনকি কক্সবাজারে গিয়ে তিনি দাবি করেছেন, বিরোধী দল নাকি বাজেটে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ট্যাক্স বাড়ানোর প্রতিবাদে মিছিল করেছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া। প্রধানমন্ত্রীর পদটি একটি রাষ্ট্রীয় পদ। তাঁর মুখ দিয়ে অনবরত এমন ভুল ও মিথ্যা তথ্য বের হওয়া জাতির জন্য লজ্জাজনক ও ক্ষতিকর।’ 

এ সময় তিনি জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ‘সংসদে কথা বলার পরিবেশ না পেয়ে আমরা রাজপথে চলে এসেছি।’ 

সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংক দখল শুরু হয়েছে। ইসলামী ব্যাংককে আবার এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। এস আলমের গাড়িতে চড়ে কে সংবর্ধনা নিয়েছিলেন; কারা তাঁকে প্রটেকশন দিচ্ছেন, তা জনগণ জানে। জনগণ এই দখলদারি কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’ 

এ সময় তিনি জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে পুলিশের মারধরের ঘটনা নিয়েও কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন করতে হলে গণভোটের রায় অনুযায়ী পুলিশ, দুদক ও বিচার বিভাগ সংস্কার করতে হবে। গত শুক্রবারও চট্টগ্রামে একজন ক্রিকেটারকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছে। পুলিশ সংস্কার না হওয়ায় জনগণের ওপর আবারও জুলুম শুরু হয়েছে। সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণও গণঅভ্যুত্থানের দিকে হাঁটবে।’ 

সীমান্তে পুশইন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সীমান্তে কাঁটাতার আর বন্দুকের গুলি দিয়ে কোনো বন্ধুত্ব হয় না। বাংলাদেশ ও ভারতের আকাশ এবং মাটি এক নয়। এর ফয়সালা ১৯৪৭ সালেই হয়ে গেছে। ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে হয়ে গেছে। বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি টিকে থাকবে না।’ 

সমাবেশে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, ‘দেশের মানুষ রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের প্রতিহত করতে হবে। চারদিকে শত্রু রেখে বাঁচা সম্ভব নয়। বিরোধী দলের সঙ্গে অন্তত বন্ধুত্বের পথ তৈরি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।’ 
এ সময় তিনি সচিবালয়ে দালাল চিহ্নিত করা হলেও উপজেলা পর্যায়ের দালালদের কেন চিহ্নিত করা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অলি আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে– দেশের মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। নারীরা নিরাপদ নয়; স্কুল-কলেজও নিরাপদ নয়। তারেক রহমানকে অনুরোধ করব, আপনি চারদিকে বিভিন্ন লোক দ্বারা পরিবেষ্টিত। আগে তাদের সম্পর্কে অবগত হোন। আগে ঘর সামলান, তারপর বাইরের কথা চিন্তা করুন।’ 

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান একেএম আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ। 

বিকেল ৩টা থেকে সমাবেশ শুরু হলেও দুপুর থেকে নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে লালদীঘি মাঠের সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশে বিপুলসংখ্যক লোকের জমায়েত হয়।

আরও পড়ুন

×