ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

রাউজানে যুবদল নেতা খুন

মামলা হয়নি, আটকও নেই কেউ

মামলা হয়নি, আটকও নেই কেউ
×

মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১৩:০৫ | আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ | ১৩:১৭

চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। চাঞ্চল্যকর এই খুনের অভিযোগে কোনো আসামিও আটক নেই। অথচ সিসিটিভি দেখে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। পাওয়া গেছে তাদের পরিচয়ও।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‌‌সিসিটিভি দেখে খুনিদের শনাক্ত করতে পেরেছি। এটার পেছনে কারা আছে তাদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে। এজন‍্য মামলা করতে একটু দেরি হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযানও চলছে। তবে এখনও কেউ আটক হয়নি।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান গ্রুপের সদস্যরা এ কিলিং মিশনে অংশ নেন। সিসি ক্যামরার ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তও করা গেছে। ঘটনার সময় তিনজনের হাতে ছিল পিস্তল, দুইজনের কাছে শর্টগান।

ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চট্টগ্রামের ত্রাস হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ বাহিনীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রাউজানের রায়হান বাহিনীতে থাকা উপজেলার কদলপুরের মোহাম্মদ ইলিয়াস প্রকাশ ধামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম প্রকাশ দিদার প্রথমে যুবদল নেতা মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এরপর পর রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফরেস্ট অফিস এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফ, রাউজান সদর ইউনিয়নের পূর্ব রাউজান এলাকার মোহাম্মদ জাহেদ ও মোহাম্মদ আবছার দৌড়ে গিয়ে আবার মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

১৩ জুন শনিবার দুপুরে যুবদল নেতা মাসুদুল আলম চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মিশন শেষ করা খুনি চক্রের সদস্যরা পাহাড়ে গা ঢাকা দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্যে জানা যায়।

নিহতের ভাই বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন সমকালকে বলেন, আমাদের পরিবারের সকলেই এখন শোকাহত। বলার কিছু নাই। জানা মতে, ‘আমাদের পরিবার ও আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু নাই। কারা কেন কী কারণে তাকে এভাবে হত্যা করেছে তা আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে বের করবে।’ 

তিনি জানান, ভাইয়ের দাফন প্রক্রিয়া রোববার শেষ হয়েছে। শিগগিরই মামলা দায়ের করবেন তারা।

রাউজান থানা পুলিশ সূত্রে যানা যায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের বিরুদ্ধে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও নগরীর বিভিন্ন ১২টি হত্যা মামলাসহ ২৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী ধামা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ৫টি হত্যাসহ ১৮টি মামলা রয়েছে। ইউসুফের বিরুদ্ধে ২টি হত্যাসহ চারটি মামলা রয়েছে রাউজান থানায়। এছাড়া দিদার, জাহেদ ও আবছারের বিরুদ্ধে একধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। 
 

আরও পড়ুন

×