রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের পর কারিগরি ত্রুটি, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ
ফাইল ছবি
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১৮:৩১
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের পর কমিশনিং বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলাকালে কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এ কারণে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, ত্রুটিটি উদ্বেগজনক নয় এবং এটি কমিশনিং প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ।
আজ সোমবার নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পরীক্ষা চলাকালে এ ধরনের ছোটখাটো ত্রুটি শনাক্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বর্তমানে ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। সমস্যা সমাধান হলে পুনরায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বলেন, নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে একাধিক পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। এসব পরীক্ষায় সামান্য বিচ্যুতি শনাক্ত হওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতারই প্রমাণ।
তিনি বলেন, সেকেন্ডারি সার্কিটে ৮ দশমিক ১ মেগাপাস্কাল চাপে পরিচালিত ‘লিক-টাইটনেস টেস্ট’ একটি বাধ্যতামূলক পরীক্ষা। কেন্দ্র শাটডাউন অবস্থা থেকে অপারেশনাল অবস্থায় যাওয়ার আগে নিয়মিতভাবে এ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
রূপপুর প্রকল্পের মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিচালিত শীতলীকরণ পরীক্ষার সময় ত্রুটিটি ধরা পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। তিনি বলেন, ত্রুটিটি ছোট এবং দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে।
এর আগে জ্বালানি লোডিংয়ের আগেও রিঅ্যাক্টর কুলিং পাম্পে একটি ত্রুটি ধরা পড়েছিল। সে সময়ও কয়েক দিনের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটমের এক প্রতিনিধি বলেন, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে এ ধরনের সমস্যা স্বাভাবিক। এই ধাপের উদ্দেশ্যই হলো সম্ভাব্য ত্রুটি শনাক্ত করে তা সংশোধন করা। বর্তমান সমস্যাটি বড় নয় এবং মেরামতের কাজ শেষ হলে পুনরায় পরীক্ষা শুরু হবে। বিষয়টি সম্পর্কে আইএইএও অবগত রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরমাণু বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি লোডিং ও কমিশনিং পর্যায়ে ক্ষুদ্র কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে প্ল্যান্ট শাটডাউন করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতি সে ধরনের নয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর প্রকল্পকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তুলতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রথম প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে রূপপুরে আরও দুটি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে গত ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে কমিশনিং কার্যক্রম চলছে। দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও প্রস্তুতিমূলক কাজও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে দুটি ইউনিট থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
