ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে লাইভে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা ব্যবসায়ীর

চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে লাইভে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা ব্যবসায়ীর
×

লাইভে কথা বলছেন সুমন ঘোষ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ১৫:৫২ | আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ | ১৭:০১

চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে এসে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন সুমন ঘোষ (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ী। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সুমন ঘোষ নগরের বক্সিরহাট এলাকার ‘স্বপন ঘোষ অ্যান্ড সন্স’ নামের একটি মসলাজাত পণ্যের দোকানের মালিক। শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে বিষপান করেন।

ফেসবুক লাইভে সুমন ঘোষ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির নাম ব্যবহার করে শমসের আলী, আইয়ুব আলী ও শাহাদাত আলী নামে তিন ব্যক্তি তার কাছে দোকান ভাড়ার নামে চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করে হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

লাইভে বিষের বোতল হাতে নিয়ে সুমন ঘোষ বলেন, ‘আমি যখন বললাম, আপনাদের কেন চাঁদা দেব? আমার তো মালিক আছে, আমি তাকেই ভাড়া দেব। তখন তারা বলে, এটা চাঁদা হিসাব করেই দিতে হবে। আমি এদের চাঁদাবাজির কারণেই আত্মহত্যা করছি। আমার মৃত্যুর জন্য এরা দায়ী।’

বিষপানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে তার পাকস্থলী পরিষ্কার (ওয়াশ) করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল আলম বলেন, ফেসবুক লাইভে বিষপানের খবর পেয়ে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।

এদিকে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ নাজমুন নূর বলেন, ব্যবসায়ীর চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসংক্রান্ত একটি মামলায় সুমন ঘোষকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি প্রায় পাঁচ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।

অন্যদিকে, সুমন ঘোষের অভিযোগের পর অভিযুক্তদের একজন আইয়ুব আলী কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সুমন ঘোষের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন।
 

আরও পড়ুন

×