১০ বছরের শিশু অন্তঃসত্তা, সেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ১৮:১৯ | আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ | ১৮:২৫
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এক শিশু সাত মাসের অন্তঃসত্তা হওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার পলাতক আসামি মোহন তালুকদার (২৫) রাত ১২টা ৫০ মিনিটে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। গতকাল শুক্রবার রাতে মোহনগঞ্জ থানায় হাজির হন তিনি। পরে পুলিশ আজ শনিবার তাকে আদালতে পাঠিয়েছে।
থানায় হাজির হয়ে মোহন তালুকদার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি আত্মসমর্পণ করলাম। তদন্তের মাধ্যমে সত্যিটা বের হবে আশা করছি।’
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন আজ শনিবার দুপুরে আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মোহন তালুকদার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তিনি মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। ধর্ষণের অভিযোগের পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিন মজুরের কাজ করেন। মা এলাকায় বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান।
মামলায় শিশুটিকে কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে ছিল শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন। এ সময় প্রতিবেশী মোহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলা এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখে। গত ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে ধর্ষণের ঘটনার কথা জানায়। এর পরদিন ১৩ মার্চ স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করালে রিপোর্টে ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণের তথ্য পাওয়া যায়। ১৫ মার্চ অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও একই ধরনের রিপোর্ট আসে। সেদিন আইনি সহায়তা নিতে পরিবারটি মোহনগঞ্জ থানায় গেলে পুলিশ আদালতে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত মোহনগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পর গত ২ মে মোহন তালুকদারের বিরুদ্ধে মোহনগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এর পর থেকে মোহন তালুকদার আত্মগোপন করেন।
মামলা হওয়ার পর থেকেই মোহন তালুকদার গা ঢাকা দিয়েছিলেন। মোহন তালুকদারকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। শুক্রবার রাতে তিনি নিজেই থানায় এসে হাজির হন।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে মোহন তালুকদারের পরিবারকে এ বিষয়ে কাউন্সেলিং করা হয়েছিল যেন তিনি (মোহন) আত্মসমর্পণ করেন। এটা তাদের জন্যই ভাল হবে। পরে শুক্রবার রাতে সে থানায় হাজির হয়। কৌশলগতভাবে তাকে আটক করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
- বিষয় :
- নেত্রকোনা
