ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করতে থানায় যাওয়ায় তিনজনকে পিটুনি
প্রতীকী ছবি
চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ০৭:৫৬
ভোলার চরফ্যাসনে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় থানায় যাওয়ায় ভুক্তভোগীসহ তার মা-বাবাকে মারধর করা হয়েছে। গত শুক্রবারের ঘটনায় আহত অবস্থায় তিনজনই চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। গতকাল রোববার তাদের সঙ্গে সেখানেই কথা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী কৃষিকাজের পাশাপাশি রিকশা চালান। বাড়িতে কম থাকেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর একটি পালিত হাঁস বাড়ি ফেরেনি। হাঁসের খোঁজে তিনি মেয়েকে নিয়ে প্রতিবেশী জাকির হোসেনের (৫৫) বাড়ি যান। সেখানে না পেয়ে মেয়েকে বাড়ি চলে যেতে বলে তিনি অন্য বাড়ি যান। মেয়ে বাড়ি ফেরার পথে তার গতিরোধ করে জাকির তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। তিনি বাড়ি ফেরার পর মেয়ের কাছে ঘটনা শুনে প্রতিবেশীদের জানিয়ে রাতেই চরফ্যাসন থানায় গিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। থানা থেকে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য আলমগীর হোসেনের মাধ্যমে জাকিরকে ডেকে নেওয়া হয়। কিন্তু আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে সমঝোতার কথা বলে জাকিরকে ছাড়িয়ে আনেন স্থানীয় মাতবর রিয়াজ ফরাজী ও গ্রাম পুলিশ সদস্য আলমগীর হোসেন।
এই গৃহবধূর ভাষ্য, থানায় যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন জাকির হোসেন। তিনি লোকজন নিয়ে পরদিন শুক্রবার দুপুরে তাঁর স্বামীর ওপর হামলা করেন। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে এ নারী ও তাঁর কিশোরী মেয়েকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রতিবেশীরা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। গ্রাম পুলিশ সদস্য আলমগীর হোসেনের দাবি, জাকির হোসেনকে থানায় নিয়ে গেলে রিয়াজ ফরাজী চিকিৎসার কথা বলে তাঁকে নিজ জিম্মায় নেন। মাতবর রিয়াজ ফরাজীর মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
- বিষয় :
- ভোলা