ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সিরাজগঞ্জ খাদ্য বিভাগ

বস্তা সংকটে বোরো সংগ্রহ অভিযানের গতি কমেছে

ধান নিয়ে গুদাম থেকে ফিরছেন কৃষক

বস্তা সংকটে বোরো সংগ্রহ অভিযানের গতি কমেছে
×

ধান-চাল বোঝাই কয়েকটি ট্রাক গতকাল বুধবার দেখা যায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা খাদ্যগুদামে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

বস্তা সরবরাহে দেরি হওয়ায় সিরাজগঞ্জে বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের গতি কমে গেছে। জেলা খাদ্য বিভাগের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঠিকাদারদের মাধ্যমে বস্তা সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে ও সরবরাহ চলছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনও প্রয়োজনীয় বস্তা গুদামে পৌঁছায়নি। কৃষকেরা বলছেন, সরকারের কাছে ধান বিক্রির জন্য নিয়ে এসেও ফিরতে হচ্ছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার ১৩২ টন, সেদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ হাজার ৪৮৭ টন। গত ১৫ মে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৯ হাজার ৬২৬ টন ধান ও ১৭ হাজার ৫৪৫ টন চাল। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে ধান-চাল সংগ্রহ।
জেলা খাদ্য বিভাগের অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনা করে গতকাল বুধবার দেখা যায়, চাল সংগ্রহের জন্য ৩০ কেজি ধারণ ক্ষমতার বস্তার ঘাটতি রয়েছে দুই লাখ ১৬ হাজার ৭০টি। ধান সংগ্রহের জন্য ৫০ কেজির বস্তা প্রয়োজন দুই লাখ ২৪ হাজার ৩০০টি বস্তা। বিপরীতে ব্যবহারযোগ্য মজুত রয়েছে মাত্র ১৫ হাজার ৩৬৮টি।

বুধবার রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা খাদ্যগুদামে দেখা যায়, ধান বিক্রি করতে আসা অনেক কৃষক বস্তার অপেক্ষায় আছেন। কেউ কেউ ধান বিক্রি না করেই ফিরে যাচ্ছেন। কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘গুদামে এসে শুনলাম বস্তা নেই। তিন দিন পরে আসতে বলেছে, না হলে নিজের বস্তায় ধান রেখে যেতে হবে। বারবার আসা-যাওয়ায় পরিবহন খরচই বেশি পড়ে। তাই ধান নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।’
এদিন ধান দিতে এসেছিলেন চান্দাইকোনার ডুমরাই গ্রামের চাষি মজিবর রহমান ও পশ্চিম লক্ষ্মীখোলা গ্রামের আলআমিন তালুকদারসহ কয়েকজন। তারা বলেন, সরকারি দরে বিক্রি করা ধান দিতে এসেছেন গুদামে। কিন্তু কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুদামে বস্তার সংকট আছে। তাই চাল দিলে কৃষকদেরই বস্তা দিতে হবে। না হলে তাদের ধান পরে নেওয়া হবে। এতে ধান না জমা করে ফিরে যান তারা। 
চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে এ গুদামে ধানচাল মিলে লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার ৪৬ টন বলে জানান গুদামটির খাদ্য পরিদর্শক তন্ময় বিশ্বাস। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত সংগৃহীত হয়েছে ছয় হাজার ৫৮০ টন। তার মধ্যে চাল ছয় হাজার ২৫৫ টন ও ধান ৩২৫ টন। খাদ্য গুদামের ধারণ ক্ষমতা দুই হাজার ৫০০ টন। ধারণ ক্ষমতার বাইরে গেলে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। তখন ট্রাকে করে অন্য জেলা বা উপজেলায় পাঠাতে হয়।
একই চিত্র জেলার কাজিপুর ও উল্লাপাড়া খাদ্য গুদামেও। কাজিপুরের খাদ্য পরিদর্শক ওয়ালিউর রহমান বলেন, তারা জরুরি ভিত্তিতে ১৫ হাজার বস্তার চাহিদা পাঠিয়েছেন। কিন্তু এখনও বরাদ্দ মেলেনি। ফলে পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত বস্তা মেরামত করে, অন্য গুদাম থেকে বস্তা এনে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

উল্লাপাড়া খাদ্য গুদামেও চাহিদার তুলনায় বস্তার ঘাটতি রয়েছে বলে জানান খাদ্য পরিদর্শক মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, অন্য জেলা বা উপজেলা থেকে বস্তা এনে কোনোমতে কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশীদ বলেন, গত বছর ছয় লাখের মতো বস্তার প্রয়োজন হলেও ৯ লাখ বস্তা কেনা হয়েছিল। ফলে তিন লাখ বস্তা উদ্বৃত্ত ছিল। এবার একটি দরপত্রে দর বেশি হওয়ায় সেটি বাতিল করতে হয়। পরে নতুন দরপত্র আহ্বান ও জুন-জুলাই মাসে বিল পরিশোধে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ঠিকাদার সরবরাহে আগ্রহ দেখাননি। এতে বস্তা সরবরাহে দেরি হয়েছে। এই কর্মকর্তার দাবি, এটিকে সংকট বলা ঠিক হবে না। পর্যায়ক্রমে বস্তা সরবরাহ করা হচ্ছে।
হারুন অর রশীদ আরও জানান, চান্দাইকোনা, উল্লাপাড়া ও তাড়াশে পূর্ণমাত্রায় সংগ্রহ শুরু হলে আরও ৭০ হাজার বস্তার মতো প্রয়োজন হতে পারে। গত মঙ্গলবার বিকেলে খাদ্য অধিদপ্তরের  মহাপরিচালকের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকও বিষয়টি তদারকি করছেন। ৩১ আগস্টের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
 

আরও পড়ুন

×