সি-ট্রাক বন্ধ ৭ মাস, ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে মেঘনা পাড়ি
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
সাগরকূলের বিচ্ছিন্ন উপজেলা ভোলার মনপুরায় যাতায়াতের জন্য বিআইডব্লিউটিসির একমাত্র সি-ট্রাক ৭ মাসের বেশি সময় বন্ধ। এর ফলে প্রতিদিন জীবন ঝুঁকি নিয়ে পণ্য পরিবহনের ট্রলারে মনপুরা যাতায়াত করছেন শত শত যাত্রী। মেঘনা নদীর বিপজ্জনক এলাকায় সি-সার্ভে ব্যতীত নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু অবৈধ ট্রলারে যাত্রী পারাপার করছে মাসের পর মাস। এসব ট্রলার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর কোনো তদারকি নেই।
জানা গেছে, তজুমদ্দিন থেকে মনপুরা যাত্রীদের নিরাপদ মেঘনা পারাপারের জন্য এসটি ইলিশা নামের বিআইডব্লিউটিসি একটি সি-ট্রাক বরাদ্দ দেয়, যা গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে বন্ধ। সরকারের নির্দেশনা রয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর মেঘনার ডেঞ্জার জোনে সি-সার্ভে ছাড়া কোনো নৌযানে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। সরকারের এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে মনপুরা-তজুমদ্দিন নৌপথে পণ্য পরিবহনের ট্রলারে যাত্রী পারাপার করছে। জিম্মি করে আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া। বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ যানে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। জান-মালের নিরাপত্তায় দ্রুত সি-ট্রাক চালুর দাবি তাদের।
গত ২৭ জুন সরেজমিন দেখা যায়, সাগরকূলের মনপুরা থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে তজুমদ্দিন ঘাটে আসছে পণ্য পরিবহনের ট্রলার। ত্রিপল দিয়ে ঢাকা খোন্দলের মধ্যে যাত্রী। এই ট্রলারের কোনো ফিটনেস সার্টিফিকেট বা যাত্রী পরিবহনের বৈধ অনুমতি নেই। তারপরও ৭ মাসের মতো যাত্রী পরিবহন করছে ট্রলারটি। নেই কোনো বসার স্থান, নিরাপত্তা সরঞ্জাম। প্রচণ্ড গরম আর বৈরী আবহাওয়ায় হাঁসফাঁস অবস্থা যাত্রীদের। এর মধ্যেই জীবন ঝুঁকি নিয়ে প্রমত্তা মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে শতাধিক মানুষ।
এ দিন বিকেলে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে মনপুরা যাওয়ার জন্য ঘাটে আসেন হাজিরহাট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তপন চন্দ্র হাওলাদার। ট্রলার দুরাবস্থা ও নদীর ঢেউ দেখে ট্রলারে উঠতে সাহস পাচ্ছেন না তিনি। তপনের ভাষ্য, মনপুরার প্রতিটি মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন।
রহম আলী নামের অন্য এক যাত্রী বলেন, পণ্যবাহী ট্রলারের খোন্দলে করে যাত্রী, গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি ও মালামাল একসঙ্গে পরিহন করা হয়। মাঝ নদীতে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে নারী-শিশুসহ যাত্রীদের কান্নার রোল পড়ে যায়।
বিআইডব্লিউটিসির উপবাণিজ্য ব্যবস্থাপক (যাত্রী) খন্দকার মুহাম্মদ তানভী হোসেন জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির ও ইজারা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সি-ট্রাকটি বন্ধ। জটিলতা কাটিয়ে শিগগিরই সি-ট্রাক চালু করা হবে।
সম্প্রতি ভোলা সফরে এসে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান জানান, মানুষের
ভোগান্তি লাগবে সরকারি বা বেসরকারি যেখান থেকে সম্ভব জাহাজ দেওয়া সম্ভব, সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- ট্রলার