ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

লোডশেডিং ঘুম কেড়ে নিয়েছে পরীক্ষার্থীদের

লোডশেডিং ঘুম কেড়ে নিয়েছে পরীক্ষার্থীদের
×

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাত ১২টা। সন্তানকে কোলে নিয়ে সবে চোখ বুজেছেন স্কুলশিক্ষক আজিজুর রহমান। ঠিক তখনই বন্ধ হয়ে গেল পাখা। গোটা ঘর যেন পরিণত হলো জ্বলন্ত চুল্লিতে। তীব্র গরমে এক ঘণ্টা ধরে ছটফট করল ছোট্ট শিশুটি; নির্ঘুম রাত কাটল বাবারও।

এই দৃশ্য একা আজিজুর রহমানের নয়। গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে সিলেটের ঘরে ঘরে এখন এই অবস্থা। বিদ্যুতের এমন আসা-যাওয়ায় রীতিমতো আতঙ্কিত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তীব্র গরমের মধ্যে সিলেটে লোডশেডিং এখন কানামাছি খেলার মতো রূপ নিয়েছে। দিনে-রাতে প্রায় প্রতি ঘণ্টাতেই বিদ্যুৎবিভ্রাট চলছে।
শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের চিত্র আরও ভয়াবহ। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা দিনে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন। তবে বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার খেলায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে পরীক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তেও মোমবাতি কিংবা হারিকেনের আবছা আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে অনেককেই। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার লাইটগুলোও অনেক সময় অকেজো হয়ে পড়ছে।

সিলেট এমসি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাদাত আনোয়ার হিমেল জানায়, গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতের যে অবস্থা, তা খুবই করুণ। পরীক্ষার ঠিক আগের রাতেও এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে পড়াশোনায় গুরুতর ব্যাঘাত ঘটবে।
কানাইঘাটের স্কুলশিক্ষক আবদুর রহমান জানান, ক্লাসরুমে গরমে ঘামে ভিজে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। রাতে ঘুম কম হওয়ায় ক্লাসে তাদের মনোযোগ থাকছে না। পরীক্ষার্থীদের সেই সঙ্গে রয়েছে বাড়তি মানসিক চাপ। তাদের অবস্থা আরও খারাপ।
আম্বরখানার এক ব্যবসায়ী জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসায় বেচাকেনা থমকে গেছে। একই কারণে ফ্রিল্যান্সার ও রিমোট জবে থাকা তরুণরাও ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানিয়েছেন, চাহিদা মতো জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ না মেলায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সিলেটে বুধবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৪০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১৫৫ মেগাওয়াট। ফলে ৮৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়লে সিলেটেও লোডশেডিং কমবে।

আরও পড়ুন

×