ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বরগুনার আমতলী

সরকার সিলিন্ডারের দর কমালেও বাড়তি টাকা গুনতে হয় ক্রেতার

সরকার সিলিন্ডারের দর কমালেও বাড়তি টাকা গুনতে হয় ক্রেতার
×

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

রান্নার জন্য মাসে একটি ১৫ কেজির এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার লাগে লাইলী বেগমের সংসারে। 
গতকাল শনিবার বরগুনার আমতলী পৌর এলাকার একে স্কুল এলাকার একটি দোকানে এসেছিলেন সেই সিলিন্ডারের জন্য। টোটাল গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের এই বাসিন্দাকে গুনতে হয়েছে ২৪০০ টাকা। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার গত বৃহস্পতিবার যে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, তা অনুযায়ী ১৫ কেজির এলপিজি (লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৯১০ টাকা। লাইলীকে বাড়তি গুনতে হয়েছে ৪৯০ টাকা। 

আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা লাইলী বেগমের মতোই বাড়তি দামে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলেন, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় খুচরা বিক্রেতারা বাজারে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছেন। এতে সাধারণ ভোক্তার পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা গচ্চা যাচ্ছে। 

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার সিলিন্ডারভেদে নির্দিষ্ট হারে এলপিজির দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৫২৮ টাকা, সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার এক হাজার ৫৯১ টাকা, ১৫ কেজির সিলিন্ডার এক হাজার ৯১০ টাকা। এ ছাড়া ২০ কেজির সিলিন্ডার দুই হাজার ৫৪৬ টাকা, ২৫ কেজির সিলিন্ডার তিন হাজার ১৮৩ টাকা, ৩০ কেজির সিলিন্ডার তিন হাজার ৮১৯ টাকা, ৩৩ কেজির সিলিন্ডার চার হাজার ২০১ টাকা, ৩৫ কেজির সিলিন্ডার চার হাজার ৪৫৬ টাকা ও ৪৫ কেজির সিলিন্ডার পাঁচ হাজার ৭২৯ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা।
আমতলীর ক্রেতাদের মধ্যে ১২, ১৫ ও ২০ কেজির সিলিন্ডারের চাহিদা বেশি। ক্রেতারা জানিয়েছেন, এই তিন ধরনের সিলিন্ডার বিক্রিতেই নৈরাজ্য চলছে। সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় তাদের কেউ ৩০০, কেউ ৩৫০, কেউ ৪০০, কেউ ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখছেন। 

গতকাল শনিবার সকালে আমতলী উপজেলার পুরাতন বাজার, একে স্কুল, বটতলা, আল হেলাল মোড়, হাসপাতাল সড়ক ও নতুন বাজার চৌরাস্তা মোড় এলাকা ঘুরে ক্রেতাদের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এসব এলাকার খুচরা বিক্রেতারা বসুন্ধরা গ্রুপের ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি করছেন ১৭৫০ টাকায়। তারা বাড়তি নিচ্ছেন ২২২ টাকা। ১২ কেজির টোটাল গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে ১৮০০ টাকায়। এখানে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ২৭২ টাকা। ১২ ও ১৫ কেজির যমুনা, আই, সেনা, ওরিয়ন, 
বিএম–সব কোম্পানির সিলিন্ডারেই সরকার নির্ধারিত দামের ২০০-২৫০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে টোটাল গ্যাসের ১৫ কেজির সিলিন্ডারে। এই সিলিন্ডারে গড়ে ৪৫০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে।

১২ কেজির তিনটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনলে দুই মাস চলে যায় পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমেনা বেগমের। তিনি গতকাল এসেছিলেন নতুন বাজারে। বসুন্ধরার ১২ কেজি একটি সিলিন্ডারের জন্য তাঁকে গুনতে হয়েছে ১৭৫০ টাকা। একই দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছেন বলে জানান একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলী হোসেন। এই দুজনসহ অন্য ক্রেতারা বলছেন, সরকার দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও বাজারে গিয়ে তারা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। বিক্রেতারা পরিবহন খরচ, সরবরাহ সংকট বা কোম্পানির নির্ধারিত দাম বেশি জানিয়ে বাড়তি দাম আদায় করছেন।
নতুন বাজার এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী মো. কনু মিয়ার দাবি, ‘ডিলারেরা দাম না কমানোয় আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ বটতলা এলাকার বিক্রেতা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, কেনা দামের সঙ্গে সামান্য লাভ যুক্ত করে বিক্রি করেন তারা। 
বসুন্ধরা গ্রুপের উপজেলার ডিলার মো. মহিউদ্দিনের ভাষ্য, তারা পাইকারি কিনে হার অনুযায়ী খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু কোম্পানি থেকে এখনও দাম কমায়নি। তাই আগের দরেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। 
একই দাবি করে টোটাল গ্যাসের ডিলার মেসার্স ইব্রাহিম ট্রেডার্সের মালিক মীর মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘কোম্পানি এখনও দাম কমায়নি। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের সুবিধা আমরা পাচ্ছি না।’
এসব অভিযোগ বিষয়ে আমতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে গ্যাসের দাম যেসব ব্যবসায়ী বেশি নেবেন, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। 
 

আরও পড়ুন

×