ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

শ্বাসনালি কেটে ইরা হত্যা মামলার রায় মঙ্গলবার

শ্বাসনালি কেটে ইরা হত্যা মামলার রায় মঙ্গলবার
×

প্রতীকী ছবি

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৫১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনিকে (৮) শ্বাসনালি কেটে হত্যার আলোচিত ঘটনায় হওয়া মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার। চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস গত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। গতকাল রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট সরোয়ার হোসাইন লাভলু।

নিহত জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম টমটমচালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত ইরা। গত ১ মার্চ সকালে তাকে চকলেট কিনে দেওয়া ও বেড়াতে যাওয়ার নাম করে নিয়ে যায় প্রতিবেশী বাবু শেখ। পরে বাসে শিশুটিকে তুলে সীতাকুণ্ডে নিয়ে যান তিনি। সেখান থেকে হেঁটে বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকার পাহাড়ে নেওয়া হয় ইরাকে। এদিন দুপুরে ওই পাহাড়ে সড়ক-সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা গলাকাটা অবস্থায় ইরা মনিকে দেখতে পান। জঙ্গল থেকে হেঁটে শিশুটি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছেছিল। এরপর শ্রমিকরা তাকে নিয়ে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। সেখানে ৩ মার্চ মারা যায় ইরা।

এ ঘটনায় ৩ মার্চ দুপুরে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানাধীন মধ্যম পুলুপাড়ায়। সীতাকুণ্ডে ইরা মনির পরিবারের পাশের ঘরে থাকতেন তিনি। বাবু শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছিল, শিশুটিকে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। ঘটনাটি জানিয়ে দেওয়ার কথা বলায় চাকু দিয়ে ইরার গলা কেটে চলে যান বাবু।

এ ঘটনায় ইরা মনির মায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগ গঠন করা হয় ১৮ জুন। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় ২১ জুন থেকে। একমাত্র আসামি বাবু শেখ ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষী দেন। এর আগে মোট ছয় কার্যদিবসে ১৬ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে ইরার পরিবারকে আইনগত সহায়তা দিয়ে আসছেন এপিপি অ্যাডভোকেট সরোয়ার হোসাইন লাভলু। তিনি গতকাল বলেন, হত্যাকাণ্ডের চার মাসের মাথায় এ মামলাটির রায় হচ্ছে। বিচার শুরু থেকে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র ১০ দিনে।

আরও পড়ুন

×