নদনদী গিলছে বসতভিটা, সড়ক
নেত্রকোনার সদর উপজেলার মুক্তির বাজার-ধামরীহালা সড়কের আগুনহাটি গ্রামে ভাঙন। সম্প্রতি তোলা ছবি সমকাল
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১১
| প্রিন্ট সংস্করণ
কংস নদ ও গোলাকালী নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। অব্যাহত ভাঙনে নদের পেটে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, সড়ক ও ফসলি জমি। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুক্তির বাজার, নদী তীরবর্তী সড়ক। এই চিত্র নেত্রকোনা সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়ন ও বারহাট্টা উপজেলার বাউশি ইউনিয়নের।
জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যে কোনো সময় বিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দির নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। নেত্রকোনা সদর উপজেলার মুক্তির বাজার থেকে ধামরীহালা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সড়কটি ভেঙে গেলে ১০-১২টি গ্রামের মানুষ চলাচলে ভোগান্তির মধ্যে পড়বেন।
এলাকাবাসী জানান, নেত্রকোনা সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কংস নদের তীর দীর্ঘদিন ধরে ভাঙছে। গত কয়েক বছরে বাহিরকান্দা, নওবন্দ, হরিদাসপুর, কাকিয়াকুড়ি, মহিষাশুড়া, চৌকারকান্দা, সেহড়াউন্দ, কর্নখলাসহ কমপক্ষে ১০-১২টি গ্রামের শতাধিক বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা নদে বিলীন হয়েছে। বর্ষায় উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পরও ভাঙন দেখা যায়। এলাকাবাসী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ভাঙনে সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের বিস্তীর্ণ অংশ, মুক্তির বাজারের কিছু অংশ নদে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবন এবং পাশের একটি মসজিদ।
এ ছাড়া বারহাট্টা উপজেলার বাউশি ইউনিয়নের সাধুয়ারকান্দা এলাকায়ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। সাধুয়ারকান্দা, হাঁটখলা, চাঁনপুর, নতুন শেখেরপাড়া ও দেওপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কংসের শাখা গোলাকালী নদীর ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে পড়েছে। এরই মধ্যে নদী তীরবর্তী অনেক বাড়িঘর, কবরস্থান ভাঙনে বিলীন হয়েছে।
কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য বাহিরকান্দা গ্রামের বাসিন্দা চান মিয়া জানান, কংস নদের ভাঙনে তাদের এলাকার অনেক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। বহুবার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
নেত্রকোনা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জুবায়ের হোসেন বলেন, আতঙ্কের মধ্যে আছেন তারা। যে কোনো সময় মুক্তির বাজার নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
চন্দ্রগোনা গ্রামের হামিদা আক্তার জানান, এই সড়ক দিয়ে সন্তানদের নিয়ে স্কুলে যান তারা। সড়কটি ভেঙে গেলে সীমাহীন কষ্টে পড়তে হবে।
কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকার পাশেই কলমাকান্দা উপজেলার সিধলী গ্রাম। এই গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম কুদ্দুসের ভাষ্য, ছোট বেলায় দেখেছেন নদীর পারে অনেক বসতি ছিল। ২০-২৫ বছরে নদীভাঙনে অনেক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বাড়িঘর নদীতে চলে যাবে।
সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম জানান, নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী নিয়ে সব সময় আতঙ্কের মধ্যে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য নদীপার রক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তৈয়ব আলী বলেন, নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন-নিবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেনের ভাষ্য,
নদীভাঙন রোধে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বালু সংগ্রহের কাজ চলছে। বালু ভর্তি বস্তা ফেলে নদীভাঙন রোধ করা হবে।
- বিষয় :
- নদী