থানায় ভাঙচুরের মামলায় আসামি দুই সাংবাদিক
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
গ্রেপ্তার এক আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় হওয়া মামলায় দুই সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। গতকাল শনিবার থানা পরিদর্শনে গিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেবেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি চুরি মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গত বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের পর থানায় আনা হয়। হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি দেয়ালে নিজের মাথায় আঘাত করে অচেতন হয়ে পড়েন। শুরুতে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রিয়াজ ফকির চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানায় ঢুকে পড়েন। তারা ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হালিমকে মারধর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে হামলাকারীরা থানার বাইরে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এ ঘটনায় পুলিশ ও হামলাকারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হন।
ঘটনার রাতেই উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এতে ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। আসামি তালিকায় ২১ নম্বরে আছে আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির বরিশাল ব্যুরো ইনচার্জ এফ. এম. নাজমুল রিপনের নাম। এ ছাড়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে ২৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুই সাংবাদিক নেতাকে আসামি করার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা, কে এম আজাদ রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর বিশ্বাস ননী, সহসভাপতি এইচ এম মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক এল আর মানিক, সদস্য বরুণ বাড়ৈ, আকাশ মাহামুদ, মানিক হাওলাদার, স্বপন দাস প্রমুখ।
সাংবাদিক এফ. এম. নাজমুল রিপনের ভাষ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এই ঘটনাও এর ধারাবাহিকতা। সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের দুজনকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খান বলেন, ভিডিও ফুটেজ, প্রাথমিক তদন্ত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হামলাকারী ও হামলায় উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক দল তদন্ত করছে। কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাঁকে হয়রানি করা হবে না। প্রয়োজনে আইনগতভাবেই তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
থানা পরিদর্শনে তথ্যমন্ত্রী
এদিকে গত বৃহস্পতিবারের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের খোঁজখবর নিতে গতকাল শনিবার থানায় যান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এদিন দুপুরে তিনি ভাঙচুর করা কক্ষ পরিদর্শন করেন ও আহত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরে আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন তথ্যমন্ত্রী। এ সময় সাংবাদিকেরা থানায় হামলার ঘটনায় হওয়া মামলা থেকে দুই সাংবাদিকের নাম প্রত্যাহারে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তখন বলেন, ‘থানায় হামলা ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এই হামলায় জড়িত সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ ঘটনায় যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- থানা