চট্টগ্রামে বিপর্যস্ত সড়ক ও অচল ড্রেনেজ সচলে এক টেবিলে মেয়র ও ৩ এমপি
জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আহ্বানে অনুষ্ঠিত বৈঠক। ছবি:সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১২:১৭ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৩৭
টানা রেকর্ড বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সড়ক, অচল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জলজট থেকে নগরবাসীকে স্থায়ীভাবে মুক্তি দিতে এক টেবিলে বসেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ও চার সংসদ সদস্য। বৈঠকে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারের লক্ষ্যে চারটি সংসদীয় আসনভিত্তিক বিশেষ সমন্বয় কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
শনিবার দামপাড়ায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন রেস্ট হাউসে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিটি মেয়রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সভায় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ও সাঈদ আল নোমান। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সংসদীয় আসনের জন্যও পৃথক সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে।
প্রতিটি কমিটিতে চসিকের পাশাপাশি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম ওয়াসা, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। মাঠপর্যায়ে দ্রুত সমস্যা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক সমাধানের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় সাম্প্রতিক অতিবর্ষণ, নগরের বেহাল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের নাগরিক সমস্যাগুলোর সমাধান কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সমন্বিত উদ্যোগই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের একমাত্র পথ। সে লক্ষ্যেই মহানগরীর চারটি সংসদীয় আসনের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বিশেষ কমিটিগুলো সরেজমিনে ঘুরে সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর পরিমাণ, জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা, খাল-নালা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিরূপণ করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যৌথ উদ্যোগে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে, যা জনগণের দুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও গতি আনবে।
সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা এ সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৮ (বায়েজিদ-চান্দগাঁও), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া-ডবলমুরিংয়ের একাংশ), চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-পাহাড়তলী-খুলশী) এবং চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-ইপিজেড) সংসদীয় আসনকে কেন্দ্র করে পৃথক সমন্বয় কমিটি কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য—অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এরশাদ উল্লাহ, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং সাঈদ আল নোমানের সঙ্গে সমন্বয় করে কমিটিগুলো মাঠপর্যায়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করবে এবং দ্রুত সংস্কারের সুপারিশ জমা দেবে।
সভায় চসিক মেয়রের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, চারটি সমন্বয় কমিটি শুধু সমস্যা চিহ্নিত করে সুপারিশই করবে না, বরং সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর কাজের নিয়মিত অগ্রগতিও পর্যালোচনা করবে। ভাঙা রাস্তাঘাট মেরামত এবং খালের গতিপথ সচল করে চট্টগ্রামকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই এই সমন্বিত উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।