প্রতারণায় পাওয়া আশ্রয়ণের ঘর ৩ বছর পর দখলের চেষ্টা
অনৈতিকভাবে ঘর বরাদ্ধ নেওয়া সদরের কাকুয়ারপারে রাফিয়া খাতুনের ভবন সমকাল
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেট সদর এলাকায় নিজের দুটি বহুতল ভবন থাকার পরও তথ্য গোপন করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাফিয়া খাতুন নামে স্থানীয় এক নারীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় অনিয়মের মাধ্যমে পাওয়া ঘরটিতে রাফিয়া নিজে থাকতেন না। তাঁর নামের বরাদ্দ বাতিলের তিন বছর পর সে ঘরটি এক ভূমিহীন পরিবারকে দেওয়া হয়। সম্প্রতি রাফিয়া তাদের তাড়িয়ে ঘরটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় চতুর্থ পর্যায়ে সিলেট সদরে ১৭৫টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে খাদিমনগর ইউনিয়নের মুরারগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭২/২১-২২ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ পান সদর উপজেলার কাকুয়ারপারের আফরোজ আলীর স্ত্রী রাফিয়া খাতুন।
স্বামী ও বাবার সূত্রে পর্যাপ্ত সম্পদ থাকার পরও তথ্য গোপন করে তিনি ভূমিহীন সেজেছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এদিকে ঘর পাওয়ার কয়েক মাস পরেই রাফিয়া খাতুনের নিজস্ব ভূমির বিষয়টি জানাজানি হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, বাবার কাছ থেকে পাওয়া সম্পত্তির ওপর রাফিয়া খাতুন দুটি ভবন নির্মাণ করেন এবং তাঁর স্বামীরও নিজস্ব সম্পদ রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন রাফিয়ার ভূমিহীন সনদ বাতিল করেন।
বাতিলপত্রে উল্লেখ করা হয়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে সনদ নেওয়ায় এবং পরে নিজস্ব ভূসম্পত্তি থাকার প্রমাণ পাওয়ায় রাফিয়ার সনদটি বাতিল করা হয়।
এরপর ২০২৩ সালের ৪ জুন উপজেলা প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়ে ঘরটিতে বসবাস শুরু করে ভূমিহীন নিজাম উদ্দিন ও লুবনা বেগম দম্পতি। তারা সেখানে নিজস্ব নামে বিদ্যুৎ সংযোগ নেন। তবে সম্প্রতি রাফিয়া খাতুন ওই ঘরটি নিজের দাবি করে বর্তমান বসবাসকারী পরিবারটিকে উচ্ছেদের হুমকি ও চাপ দিচ্ছেন। এমনকি ঘরটি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নিরাপত্তা ও স্থায়ী বরাদ্দের দাবিতে ৭ জুলাই বর্তমান বসবাসকারী নিজাম উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী লুবনা বেগম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ইমরুল বলেন, রাফিয়ার যে দুটি ভবন আছে, তা প্রথমে জানা ছিল না। তিনি তথ্য গোপন করে সনদ নিয়েছিলেন। সত্যতা জানার পর তাঁর ভূমিহীন সনদ বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে যে পরিবারটি সেখানে থাকছে, তারা প্রকৃত ভূমিহীন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে রাফিয়া খাতুন দাবি করেন, তাঁর নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। বাবার বাড়িতে থাকেন। স্থানীয় মেম্বার তাঁর কাছ থেকে ঘরের চাবি নিয়ে আর ফেরত দিচ্ছেন না। ঘর ফেরত পেতে তিনি আদালতে মামলা করেছেন।
সিলেট সদর ইউএনও খোশনূর রুবাইয়াৎ বলেন, কারও নিজস্ব সম্পদ বা ভূমি থাকলে তিনি কোনোভাবেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়ার যোগ্য নন। রাফিয়া খাতুন নামের ওই নারীর বরাদ্দ বাতিল হয়েছে কিনা, তা নথিপত্র দেখে নিশ্চিত হতে হবে। এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন পেয়েছেন। তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- প্রতারণা