ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

পেঁয়াজের পর পাটেও লোকসানের শঙ্কা

পেঁয়াজের পর পাটেও লোকসানের শঙ্কা
×

আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে বাগমারা উপজেলার শালিকার বিলের পাট ক্ষেত সমকাল

 বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

পেঁয়াজ চাষে সাড়ে তিন লাখ টাকার লোকসান পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন বাগমারা উপজেলার কোনাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ সরদার। গোয়ালের গরু বিক্রি করে, বাকিটা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেই ক্ষতি সামলে একই জমিতে উন্নত জাতের পাট চাষ করেছিলেন। আকস্মিক বন্যায় সেই পাটক্ষেতও এখন পানিতে তলিয়ে যাওয়ার মুখে। দিগুণ মজুরি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। সময়মতো পাট কাটতে না পারলে আরেক দফা বড় লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা তিনি।

সমকালকে আব্দুল মজিদ বলেন, ‘পেঁয়াজে যা ক্ষতি হয়েছে, তা গরু বিক্রি আর ঋণ করে সামলেছি। এবার যদি পাটও নষ্ট হয়, তাহলে সংসার কীভাবে চলবে জানি না। গোয়ালেও আর বিক্রি করার মতো একটি গরুও নেই।’

শুধু আব্দুল মজিদ নন, অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙে বাগমারার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় হাজারো কৃষক একই সংকটে পড়েছেন। কৃষকরা বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব পাট কাটছেন। হাজার টাকা দিনমজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না।
শ্রীপতীপাড়া গ্রামের কৃষক কেরান্দি মোল্লা বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে পাট করেছি। হিসাব ছিল ভালো লাভ হবে। কিন্তু যত পানি বাড়ছে, মনে হচ্ছে সব পাটই তলিয়ে যাবে।’
এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৮১৬টি ব্রিজ ও কালভার্ট রয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক ব্রিজ-কালভার্টের মুখ মাছের ঘের, বাঁধ কিংবা বাড়ি নির্মাণের কারণে আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢল দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ পাচ্ছে না।

কৃষি কর্মকর্তা ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান, উপজেলায় ১ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চলতি মৌসুমে এর চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় জাতের তোষা জিআরও-৫২৪ এবং দেশীয় মাস্তেও-৯৮৯৭ জাতের পাটের চাষ বেশি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ১৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে। এর মধ্যে বাঘায় ৪ হাজার ৯৫০, চারঘাটে ৩ হাজার ১৫০, পুঠিয়ায় ৩ হাজার ২২০, পবায় ২ হাজার ৯০, বাগমারায় ১ হাজার ৫১০, দুর্গাপুরে ১ হাজার ৫০০, গোদাগাড়ীতে ৮৭৫, মোহনপুরে ৫০, তানোরে ৩ এবং রাজশাহী মহানগর এলাকায় ৭ হেক্টরে আবাদ হয়েছে।

আরও পড়ুন

×