ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

চার দিনে ভাঙনে বিলীন ৮ বসতঘর

চার দিনে ভাঙনে বিলীন ৮ বসতঘর
×

প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙছে। আতঙ্কে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। গতকাল মঙ্গলবার গঙ্গাচড়ায় কাচারিপাড়া গ্রাম সমকাল

রংপুর অফিস

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচারিপাড়া গ্রামে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত চার দিনে নদীতে বিলীন হয়েছে আটটি বসতবাড়ি ও প্রায় ৫০ বিঘা আবাদি জমি। পানি কমতে শুরু করলেও তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের মাটি ধসে পড়ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে। অনেক বাড়ির আঙিনা ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। কোথাও ভাঙন বসতঘরের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। শেষ সম্বল রক্ষায় কেউ ঘরের টিন খুলে নিচ্ছেন, কেউ ইট-কাঠ ও প্রয়োজনীয় মালাপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে গৃহস্থালির জিনিসপত্র নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

ভুক্তভোগী মোত্তালিব হোসেন বলেন, ‘চোখের সামনে আমার বাড়ি নদীতে চলে গেল। সারাজীবনের সঞ্চয় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।’ সুরুজ মিয়া বলেন, ‘সরকার দ্রুত সহায়তা না করলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।’ আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, ‘ঘরবাড়ি, জমি সব নদী কেড়ে নিয়েছে। এখন সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাব, সেটাই সবচেয়ে বড় চিন্তা।’
ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং তিস্তা নদীতে স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক।
নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং সরকারি সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে।
 

আরও পড়ুন

×