স্বামীকে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন স্ত্রী
প্রতীকী ছবি
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ১৮:২৫
পটুয়াখালীর বাউফলে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা করে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন স্ত্রী আকলিমা বেগম (৪০)। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে বিচারক নীলুফার শিরিন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আকলিমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিষয়টি আদালতের পেশকার আবদুর রাজ্জাক ও বাউফল থানার ওসি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আলমগীর হোসেনের সঙ্গে বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের বাজেমহল গ্রামের আকলিমা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় দুই বছর আগে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা করেন আকলিমা। পরে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয় এবং তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর আকলিমা তাদের একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাউফল পৌর শহরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। সম্প্রতি সন্তানের অসুস্থতার খবর পেয়ে আলমগীর বাউফলে গিয়ে সন্তানের সঙ্গে দেখা করতেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, একপর্যায়ে আকলিমার সহযোগীরা ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক তাদের দ্বিতীয়বার বিয়ে দেন। পরে ওই বিয়ের কাবিননামা সংযুক্ত করে আকলিমা পুনরায় পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আলমগীরের বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। আদালত মামলার শুনানি ও উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আদালতকে বিভ্রান্ত করে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করার অভিযোগে আলমগীর আদালতে আবেদন করেন।
ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৭(১) ধারায় আকলিমা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আদালতের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে আকলিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।