ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ডিমেনশিয়া আক্রান্ত প্রায় ১০ লাখ মানুষ, পরিচর্যায় বড় ঘাটতি

ডিমেনশিয়া আক্রান্ত প্রায় ১০ লাখ মানুষ, পরিচর্যায় বড় ঘাটতি
×

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৫১

দেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। তবে শনাক্তের বাইরে থাকা রোগীর সংখ্যা এর চেয়েও কয়েক গুণ বেশি। দ্রুত বাড়তে থাকা প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ডিমেনশিয়ার প্রকোপও বাড়লেও রোগীদের পরিচর্যা ও চিকিৎসা সেবাব্যবস্থা এখনও অপ্রতুল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।

দেশে ডিমেনশিয়া কেয়ার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং এ বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে আজ বুধবার রাজধানীতে দিনব্যাপী এক কর্মশালায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ নার্সিং কলেজ ও বাংলাদেশ জেরিয়াট্রিক নার্সেস সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে কলেজটির অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রিটায়ারমেন্ট হোমস অ্যান্ড হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সরদার এ. নাঈম বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। তবে শনাক্তের বাইরে থাকা রোগীর সংখ্যা এর পাঁচ গুণ পর্যন্ত হতে পারে। দিন দিন রোগের প্রকোপ বাড়লেও সে তুলনায় পরিচর্যা ও চিকিৎসা সেবাব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট রয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, দেশে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগ, বিশেষ করে ডিমেনশিয়ার প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ডিমেনশিয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত এবং মানসম্মত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. শফিকুল বারী। তিনি ডিমেনশিয়ার কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, আধুনিক চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পরিবারভিত্তিক সেবা এবং প্রশিক্ষিত নার্সিং জনবলের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

প্লেনারি সেশনে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডভাইজর অধ্যাপক ড. জি. ইউ. আহসান, অধ্যাপক হালিদা হানুম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. বাশিদুল ইসলামসহ প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা ও ডিমেনশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তারা বলেন, ডিমেনশিয়া শুধু একজন রোগীর সমস্যা নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে চিকিৎসক, নার্স, সেবাদানকারী এবং পরিবারের সদস্যদের সমন্বিত প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ নার্সিং কলেজের পরিচালক ডা. আশিক উর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জেরিয়াট্রিক নার্সেস সোসাইটির সভাপতি ড. মাহবুবা আফরিন। তিনি বলেন, দেশে ডিমেনশিয়া কেয়ার আরও শক্তিশালী করতে নার্সদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে।

কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নেন। তারা ডিমেনশিয়া রোগীদের মানবিক, বৈজ্ঞানিক ও ব্যক্তি-কেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন

×