ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাকৃবি

চার হলের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৮

চার হলের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৮
×

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৩৫

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি আবাসিক হলে হামলা, ভাঙচুর ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক মাধ্যমে বাগ্বিতণ্ডা, ব্যক্তিগত বিরোধ এবং অঞ্চলভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব সংঘর্ষে ১৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে হলের বিভিন্ন স্থাপনাও।

এ ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সুষ্ঠু তদন্ত করে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ব্যক্তিগত বিরোধে দুই হলে সংঘর্ষ
গত ২৩ ও ২৪ জুলাই দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে শহীদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ বাধে। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হন।

সবশেষ গত রোববার রাতে এই দুই হলের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাত ১২টার দিকে ফসিলের মোড় এলাকায় আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের ওপর শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীরা হামলা চালান। এরপর আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে শামসুল হক হলে পাল্টা হামলা চালান।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হলের গেটের লোগো, বৈদ্যুতিক বাতি ভাঙচুর এবং পটকা বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীরা এই হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত দাবি করলেও শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনলাইনে বিদ্রুপাত্মক পোস্টের জেরেই এই ঘটনার সূত্রপাত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দী হলে সংঘর্ষ
এর আগে গত শনিবার মধ্যরাতে মওলানা ভাসানী হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, কৃষি অনুষদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তর্কাতর্কি থেকে ঘটনার শুরু। পরে তা আঞ্চলিক রূপ নিলে দুই হলের শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখার ডা. আমিনুল মতিন জানান, এ ঘটনায় আহত পাঁচজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

পর পর এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হলের প্রাধ্যক্ষরা। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা ও মওলানা ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি জানান, ঘটনায় লিখিত অভিযোগ ও প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ধারাবাহিক এসব ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×