ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ৬ মাসে ১১৭ জনের প্রাণহানি

সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ৬ মাসে ১১৭ জনের প্রাণহানি
×

ছবি: সমকাল

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:০৪ | আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:১৬

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ সিলেট অঞ্চলের আওতাধীন মহাসড়কে গত ছয় মাসে ১৮৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৭৫ জন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন ১০৯ জন। সিলেট অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশ এসব তথ্য জানিয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দুর্ঘটনার মধ্যে মার্চে সবচেয়ে বেশি ৪১টি দুর্ঘটনা ঘটে। ওই মাসে নিহত হন ২৪ জন। মে মাসে ৪০টি দুর্ঘটনায় ২২ জন এবং জুনে ৩২টি দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ২৯ জন প্রাণ হারান।

হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ২২টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন, মার্চে ৪১টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন, এপ্রিলে ২৩টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন, মে মাসে ৪০টি দুর্ঘটনায় ২২ জন, জুনে ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন এবং জুলাইয়ে ৩২টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সাধারণ আহত হয়েছেন ১৬৬ জন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকের বেপরোয়া গতির পাশাপাশি যত্রতত্র পার্কিং, মহাসড়কের পাশে ভাসমান দোকান এবং হাটবাজারকেন্দ্রিক যানজট দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। মৌলভীবাজারের শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, নবীগঞ্জের আউশকান্দি কিবরিয়া চত্বর, শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্ট এবং সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের সমস্যা রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, মহাসড়কে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিলোমিটার। কিন্তু অনেক দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার বা তারও বেশি গতিতে চলাচল করে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে চালকের পক্ষে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকের চালকদের দীর্ঘ সময় বিশ্রাম ছাড়াই গাড়ি চালানোর বিষয়টিও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে ভোর ও সকালে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালানোর কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

মৌলভীবাজারের শেরপুরবাজার এলাকার বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের আশপাশে মহাসড়কের বড় অংশজুড়ে যানবাহন ও ভাসমান দোকান থাকায় পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

আজাদ বখত উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিহাবুর রহমান জানান, কয়েক বছর আগে এই চত্বরে বাসচাপায় এক পুলিশ সদস্য নিহত ও আরেকজন গুরুতর আহত হন। এর আগে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীও সেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

গত ৭ আগস্ট ভোরে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহন ও ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের দুটি দূরপাল্লার বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন বছরের শিশুসহ নয়জন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

ছয় মাসে এসব দুর্ঘটনায় ৯৫টি মামলা হয়েছে। তবে শুধু আহত হওয়া বা যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় অনেক সময় দুই পক্ষের সমঝোতায় মামলা না হওয়ায় দুর্ঘটনার পূর্ণ চিত্র মামলার পরিসংখ্যানে পাওয়া যায় না।

সিলেট অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম ১৮৫টি দুর্ঘটনায় ১১৭ জন নিহত হওয়ার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, সড়কের নাজুক অবস্থা, চালকদের দীর্ঘ সময় বিশ্রাম ছাড়া গাড়ি চালানো এবং অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। মহাসড়কের বিভিন্ন চত্বর ও হাটবাজারে যানবাহন পার্কিং এবং ভাসমান দোকান নিয়ে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা দূর করতে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×