ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

সৌদি আরবে আগুনে নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দেশে আনতে লাগতে পারে আরও কয়েক দিন

সৌদি আরবে আগুনে নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দেশে আনতে লাগতে পারে আরও কয়েক দিন
×

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসীদের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: সমকাল

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৫৫ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৫৬

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ১৩ প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। আগুনে নিহত ব্যক্তিদের পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সৌদি পুলিশের তদন্ত, ডেথ সার্টিফিকেট ও প্রয়োজনীয় আইনি ছাড়পত্র সংগ্রহের কাজ চলছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মরদেহ দেশে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রোববার দুপুরে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই ১৬ জনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁয়। তাদের মধ্যে ১২ জন আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এবং একজন নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার বাসিন্দা।

মরদেহ দেশে ফেরানোর নির্দিষ্ট সময় এখনো জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে দ্রুততম সময়ে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। পরিচয় শনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে সরকারি খরচে মরদেহগুলো দেশে আনা হবে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার ব্যাপারে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে আসতে কিছু দিন সময় লাগতে পারে। সৌদি দূতাবাস ও নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’

নিহত ১৩ জনের মধ্যে চারজনই আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের। তারা হলেন-মহন প্রামাণিক (২২), তার ছোট ভাই সুমন প্রামাণিক (১৬), রুবেল প্রামাণিক (৩০) ও কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫)।

এ ছাড়া সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮), খরস্রোতা গ্রামের মজিদুল (৩৪) ও আব্দুল জলিল (৪৮), উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩১) ও হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭), বোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২), মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০) এবং নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন (৩৮) নিহত হয়েছেন।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তিদের অনেকেই পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে এবং স্বজনদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন। তাদের পাঠানো অর্থে চলত সংসার, সন্তানদের পড়াশোনা ও ঘর তৈরির কাজ। প্রবাসে কাজ করে তারা পরিবারের জন্য আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলছিলেন।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের অনেকের পাসপোর্ট ও অন্যান্য পরিচয়পত্র পুড়ে গেছে। এ কারণে মরদেহ শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

একই সঙ্গে সৌদি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ডেথ সার্টিফিকেট ও প্রয়োজনীয় আইনি ছাড়পত্র সংগ্রহের কাজ চলছে। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই সরকারি খরচে মরদেহগুলো বাংলাদেশে আনা হবে। এরপর বিমানবন্দর থেকে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ নওগাঁয় নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর খুব শিগগিরই মরদেহ দেশে পাঠানোর সময়সূচি জানানো হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×