বিদেশি কোচের আকুতিতে বিব্রত বাফুফে
জেরার্ড জোন্স
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১২:১৪ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২২
ইংলিশ কোচ জেরার্ডের এই স্ট্যাটাসে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। ‘৯ তারিখেই আমরা তাঁর অ্যাকাউন্টে পুরো টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। যেহেতু এটি রেমিট্যান্সের বিষয় এবং বাংলাদেশের ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে, তাই ১০ তারিখের মধ্যেই তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাওয়ার কথা। কিন্তু আজ দিন শেষ হওয়ার আগেই তিনি যেভাবে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেছেন, তাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে হতাশ।’ সমকালের কাছে এভাবেই পুরো ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করেন বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী।
বিদেশি কোচের এমন কাণ্ডে বিব্রত বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারও। ‘চুক্তি অনুযায়ী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে তাঁর বেতন দেওয়ার কথা। তাঁর বেতন এরই মধ্যে ব্যাংকে চলেও গেছে। সেটি হয়তো ইংল্যান্ডে পৌঁছাতে এক দিন লাগতে পারে।’ জেরার্ড বেতন নিয়ে এতটাই হতাশ ছিলেন যে ব্যাংকে গিয়েও বাজে আচরণ করেন। তাঁর এমন কাণ্ডের পর সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানান তুষার। তবে প্রথম ওই স্ট্যাটাস দেওয়ার দুই ঘণ্টা পরই অবশ্য বেতন পাওয়ার স্বীকারোক্তি দিয়ে আরেকটি স্ট্যাটাস দেন এই ইংলিশ কোচ। তবে সেখানেও নিজের জীবন হুমকির মধ্যে আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এবং ব্যাংকে তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
তাঁর সেই দ্বিতীয় স্ট্যাটাসটি ছিল এমন, ‘আজ এর আগে দেওয়া আমার পোস্টের পর একটি ছোট আপডেট দিতে চাই। এখন আমি ব্যাংকিং-সংক্রান্ত একটি সমস্যার মধ্যে আছি। আমি অর্থ পেয়েছি ঠিকই, তবে এর সঙ্গে আরও কিছু জটিলতা রয়েছে। এমন কিছু নতুন সমস্যাও সামনে এসেছে, যেগুলো সম্পর্কে আমাকে আগে জানানো হয়নি। আমার ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য যেভাবে কিছু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও শেয়ার করা হয়েছে, তা নিয়েও আমার গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। গতকাল ঢাকায় এবং আজও এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, যেগুলো আমাকে অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও অসহায় বোধ করিয়েছে। মানুষ গাড়ির কাছে এসে, গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে, গাড়ি ঘিরে ধরে টাকা চাইছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবেও বহুবার মানুষ আমার কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছে। এখানে আমি নিজেকে খুব একা এবং বিপন্ন মনে করছি। আমি ভয় পাচ্ছি, আতঙ্কিত বোধ করছি। আমি ভীষণভাবে বিপর্যস্ত, অসহায় এবং একা। আমি আশা করছি, সবকিছু দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। কারণ আমি শুধু চাই, কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়াই নিজের কাজটা করতে।’
গত জুন মাসেই অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নেন এই ইংলিশ কোচ। বর্তমানে যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে চলছে আসন্ন অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের অনুশীলন ক্যাম্প। বাফুফে কর্তাদের ধারণা, পারিবারিকভাবে কোনো কারণে অশান্তিতে আছেন তিনি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ইংল্যান্ডে অর্থ পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়াগুলো নিয়েও হতাশ তিনি।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন
- ফুটবল
- বাফুফে
- ফুটবল কোচ