জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে বাংলাদেশ: বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। ছবি : বাসস
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:০৪
বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের তাপমাত্রা বাড়ছে। বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় আছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশি করে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তাপমাত্রা কমানো, বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।
মঙ্গলবার সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার নয়াবাজার ডিগ্রি কলেজে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বৃক্ষরোপণে সাজাব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারা বাংলাদেশকে সবুজে সাজানোর কাজ চলছে। কোথায় কতগুলো গাছ লাগানো হচ্ছে এবং সেগুলোর সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না, তা তদারকি করছে মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, সম্প্রতি কক্সবাজারে প্রায় ৪০ লাখ গাছ লাগানো হয়েছে। একক জেলা হিসেবে কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি গাছ লাগানো হয়েছে। সেখানে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণে অংশ নিচ্ছেন। গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও স্থানীয় মানুষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ রেখে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ কোটি গাছ লাগাতে হতে পারে। কারণ প্রাকৃতিক কারণ, পরিচর্যার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে কিছু গাছ মারা যেতে পারে। তাই মারা যাওয়া গাছের জায়গায় নতুন গাছ লাগিয়ে ঘাটতি পূরণ করা হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের ১৩ জুন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় প্রত্যেককে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে। সেই লক্ষ্যেই স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও একটি করে গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি শিশু একটি করে গাছ লাগাবে এবং সেটির পরিচর্যা করবে। শিশুটি যেমন বড় হবে, তার গাছটিও তেমন বড় হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি একটি সুন্দর উদ্যোগ।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি তুলে ধরে তিনি বলেন, তাপমাত্রা বাড়ছে। বেশি করে গাছ লাগানো হলে স্থানীয়ভাবে তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের পরিবেশ তৈরি হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ হবে। গাছ না থাকলে মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়বে।
পরিবেশ রক্ষায় পরিচ্ছন্নতার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে টিস্যু বা ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। নিজেদের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
একবার ব্যবহারযোগ্য পাতলা পলিথিনের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে মুদি দোকান, ফলের দোকান ও কাঁচাবাজারে পলিথিনের ব্যবহার কমাতে হবে। পলিথিনের ব্যবহার কমানো গেলে জলাবদ্ধতা কমবে এবং প্লাস্টিক দূষণও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
অনুষ্ঠানে সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান এমপি বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার ও জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। একটি শিশু জন্মের সময় তার নামে একটি গাছ লাগানো হলে সেই গাছ ভবিষ্যতে পরিবারের জন্যও উপকার বয়ে আনতে পারে।
তিনি বলেন, মন্ত্রী-এমপিরা জনগণের সেবক। জনগণের কল্যাণে কাজ করাই তাদের দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক, নয়াবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক, কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শামীম হাসান, যুগ্ম সম্পাদক মনির হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- প্রতিমন্ত্রী
- বৃক্ষরোপণ