এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা
১০ শিক্ষকের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৯, পাস করলেন ১ জন
খড়েরবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ছবি: সমকাল
চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:১১
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার খড়েরবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী থাকলেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র ৯ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। সেই শিক্ষার্থীর ফল জিপিএ ২.৫০। বাকি আটজনই ফেল করেছেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও বাল্যবিবাহকে দায়ী করলেও অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া ও শিক্ষকদের উদাসীনতার কারণেই পরিস্থিতি এমন হয়েছে।
চলতি বছর রাজশাহী জেলায় এসএসসিতে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। চারঘাট উপজেলায় পাসের হার ৬০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। উপজেলার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাস করলেও খড়েরবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল নেমে এসেছে একেবারে তলানিতে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে এমপিওভুক্ত হওয়া বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১০ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী রয়েছেন। এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যাচে মোট শিক্ষার্থী ছিলেন ১৮ জন। তবে নবম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণিতে ওঠার পর তাদের মধ্যে নয়জন বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন।
প্রধান শিক্ষক মোছা. হোসনে আরা খাতুন বলেন, ১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে নয়জন বাল্যবিয়ের কারণে পড়াশুনা বন্ধ করে দেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নয়জনের মধ্যেও পাঁচজন বিবাহিত। সব শ্রেণিতেই একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। কম বয়সে একের পর এক বাল্যবিবাহ হচ্ছে। ফলাফলের দুরবস্থার প্রধান কারণ এটিই।
তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্য মানতে নারাজ অভিভাবকেরা। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির দায় শুধু পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ও নজরদারি থাকলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মসলেম আলী বলেন, ১০ জন শিক্ষক মিলে মাত্র নয়জন শিক্ষার্থীকে দেখাশোনা করতে পারেন না, ঠিকমতো পড়াতে পারেন না, তাহলে ফল ভালো হবে কীভাবে? একজন পাস করেছে, সেটাও টেনেটুনে। শিক্ষকদের উদাসীনতার কারণেই এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।
তবে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার দাবি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহায়মেনুর রহমান তুহিন বলেন, ‘পরীক্ষা দেওয়ার জন্য এই নয়জন শিক্ষার্থীকেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেকে এনেছি। পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকাও ঠিকমতো বিদ্যালয় পায়নি। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসানো থেকে শুরু করে পড়াশোনার জন্য আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না।’
চারঘাট উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রাহেদুল ইসলাম বলেন, খড়েরবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।