লোডশেডিং
নিরাপত্তা চেয়ে এসপিকে চিঠি দিল বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগ
ছবি: সমকাল
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৪১ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৪৮
গোপালগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ও নাশকতা ঠেকাতে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)।
মঙ্গলবার গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পুলিশ সুপারের কাছে এ অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, গোপালগঞ্জ পাওয়ার হাউজ ক্যাম্পাস ও চরপাথালিয়ায় ওজোপাডিকোর দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ দপ্তর, স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওজোপাডিকোর দপ্তর ও ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত পুলিশ টহলের আওতায় আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারির অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক, গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে তীব্র লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে জরুরি সেবাও। শহরের বিভিন্ন এলাকায় দিনে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
গোপালগঞ্জ শহরের বড় বাজারের চাল ব্যবসায়ী অনুপ সাহা বলেন, পৌর মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডে ব্যবসা করেন তিনি। লোডশেডিং হলে সেখানে প্রচণ্ড গরম হয়ে যায়। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, ক্রেতারাও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। বিদ্যুৎ চলে গেলে কেনাবেচাও বন্ধ হয়ে যায়। দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।
শহরের মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান শান্ত বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। খাওয়া ও ঘুমের সময়ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। কখনো আধা ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও। কলেজ রোডের প্রিয়াঙ্কা অফসেট প্রিন্টিং প্রেসের ম্যানেজার আল আমিন শেখ বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা। কম্পিউটারে ডিজাইনের কাজ করার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক সময় কাজ আবার শুরু থেকে করতে হয়। এতে সময়মতো কাজ শেষ করে গ্রাহকদের বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বটতলা এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, বর্তমানে চিকিৎসা, অনলাইন সেবা, পাসপোর্ট, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিকসহ বিভিন্ন সেবা বিদ্যুৎনির্ভর। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এসব সেবা পেতে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত লোডশেডিং পরিস্থিতির সমাধান চায়।
গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মইনুদ্দিন আহমেদ বলেন, কোনো নির্দিষ্ট হুমকি পাওয়া যায়নি। তবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ সেবাকে কেন্দ্র করে নাশকতা বা আক্রোশমূলক ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ সুপারের কাছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা নিয়ে বিভিন্ন কথা ছড়াচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, বুধবার সকালে গোপালগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৯ মেগাওয়াট। দুপুরে চাহিদা ছিল ১৭ মেগাওয়াট, সরবরাহ ছিল ৯ মেগাওয়াট। উৎপাদনের সঙ্গে পরিস্থিতি সম্পর্কিত হওয়ায় লোডশেডিং কতদিন থাকবে তা বলা সম্ভব নয়। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে দিন-রাত মিলিয়ে গড়ে প্রায় আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। গত দুই দিন লোডশেডিং কিছুটা বেড়েছে। টাউন ফিডারের আওতায় সরকারি কলেজ ও মহিলা কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষা চলায় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে অন্য এলাকায় বেশি সময় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, বিদ্যুতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো কেপিআই হিসেবে নিয়মিতই নিরাপত্তার আওতায় থাকে। বিদ্যুৎ বিভাগ এ ধরনের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রায়ই পুলিশকে চিঠি দেয়। এবারও একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে এসব জায়গায় নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। লোডশেডিংয়ের কারণে এবারও চিঠি দেওয়া হয়েছে। পুলিশের মোবাইল টিম ও টহল দলগুলোকে এসব স্থাপনার দিকে নিয়মিত নজর রাখতে বলা হয়েছে।
- বিষয় :
- লোডশেডিং
- নিরাপত্তা
- বিদ্যুৎ বিভাগ
- এসপি