বিএনপি কার্যালয়ে আগুন, সভাপতির ছেলে আটক
প্রতীকী ছবি
সিরাজদীখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:০৮
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির ছেলে মনির হোসেনকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর আজ বুধবার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন আটক মনির।
গত ১৭ জুলাই দিবাগত রাতে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দেরচর লেকু মার্কেট এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। এতে কার্যালয়ের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ২২ জুলাই যুবদল কর্মী আব্দুস সালাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে সিরাজদীখান থানায় মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, মামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে নামে তারা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২২ জুলাই নাহিদ হাসান (২৩) ও ওসমান গনি (২৪) নামে দুজনকে আটক করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় বলে দাবি করে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলামের ছেলে মনির হোসেনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর থেকে মনির হোসেন পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
বুধবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছেন সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আসামি মনির হোসেন আজ আদালতে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তবে বিস্তারিত বিষয় পরে জানানো হবে।’
এদিকে যে কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেটি বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়। অভিযুক্ত মনির ওই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলামের ছেলে হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মনিরের বাবা ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কারও ইন্ধনে হয়তো এমন কাজ করেছে। তবে কী কারণে করেছে, তা পুলিশ বলতে পারবে।’
বালুচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হোসেন বলেন, ‘কারও ইন্ধনে হয়তো এমন কাজটি করেছে। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক। রাজনৈতিক কার্যালয় কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ মেটানোর জায়গা নয়। ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে সমাধান করা উচিত।’
বালুচর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি আমি অবগত আছি। বিএনপি নেতার ছেলে হোক বা অন্য কেউ হোক, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য অপরাধীর শাস্তি হওয়া উচিত।’
বিএনপি সভাপতির ছেলের বিরুদ্ধে বিএনপিরই কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাজার, চায়ের দোকান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।