সিআইইউতে চীনা ভাষা কোর্সের সনদ বিতরণ
ছবি-সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৫৬
চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ভূমিকা এবং বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ায় চীনা ভাষা শিক্ষার গুরুত্বও বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে (সিআইইউ) প্রথমবারের মতো কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং সাইটের চীনা ভাষা কোর্স সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোর্স সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম নুরুল আবসার।
সিআইইউর সহকারী রেজিস্ট্রার রুমা দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং সাইট, সিআইইউর পরিচালক ড. কাজী মো. সাইফুল আসপিয়া।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক মা শিয়াওইয়ান, পরিচালক অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী এবং নিউ এরা ফ্যাশনস এমএফআরএস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাং ওয়েনশেং।
বক্তারা বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে চীনা ভাষা এখন শুধু একটি বিদেশি ভাষা শেখার বিষয় নয়। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতায় পরিণত হয়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারিত হওয়ায় চীনা ভাষায় দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় চীনা ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় ম্যান্ডারিনসহ জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও জার্মান ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, ভবিষ্যৎ শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে এ ধরনের ভাষা শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরে কোর্স সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরীসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি সিআইইউতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং সাইটের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি চীনা ভাষা শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য চীনা ভাষা শেখার পাশাপাশি চীনে উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি, গবেষণা ও পেশাগত সুযোগ সম্পর্কে জানার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।