ভেড়ামারায় পদ্মার ভাঙনে ৯৫০ বিঘা জমি বিলীন
ছবি- সমকাল
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ২০:১২
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর, আড়কান্দি ও রায়টা এলাকায় পদ্মা নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতীরবর্তী প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে। গত বছর থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ভাঙনে প্রায় ৯৫০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের একমাত্র শ্মশানঘাটও নদীতে হারিয়ে গেছে।
এ ছাড়া শত শত পানচাষির প্রায় ৫ হাজার পলি পানবরজ এবং প্রায় ১০০ বিঘা কলাবাগান নদীতে বিলীন হয়েছে। দুই বছর ধরে ভাঙন চললেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। ভাঙনের ফলে কৃষিজমি ও পানচাষ হারিয়ে জীবিকা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও পানচাষিরা।
কৃষক গিরি দাস বলেন, এ অঞ্চলে আমাদের প্রাচীন শ্মশানঘাট ছিল। সেটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ভূমিকা নেয়নি। পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এখন সেখানে ৫০ ফুট পানি।
পানচাষি ও ব্যবসায়ী নেতা আসলাম উদ্দিন বলেন, ভেড়ামারা উপজেলার সবচেয়ে বেশি পানচাষ হয় এই অঞ্চলে। দেশের পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পানবাজার মূলত এখানকার পানের ওপর নির্ভরশীল। এ পর্যন্ত কয়েক শ পানচাষি প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে অন্তত ৫ হাজার পলি পানবরজ হারিয়েছেন।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, ভাঙন দুই মাস আগেই শুরু হয়েছে। পানি বৃদ্ধিতে কয়েক দিনে ভাঙনটা বেশি হচ্ছে। এখানকার ভাঙনের চাহিদা দিয়ে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। সেটি পাস হয়ে বাজেট না আসা পর্যন্ত কিছুই করতে পারব না।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, ভাঙনের বিষয়টি নিয়ে কাজ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জোর তাগিদ দিয়েছি। আমি নিজেও পরিদর্শনে যাব।