ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

স্কুলে যেতে চার ফুট লাফ, ভারতের সেই গ্রামের বর্তমান চিত্র যেমন

স্কুলে যেতে চার ফুট লাফ, ভারতের সেই গ্রামের বর্তমান চিত্র যেমন
×

ভারতের মধ্যপ্রদেশের পালোহ গ্রামে বাঁধ পেরিয়ে স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

বিবিসি

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ২০:২৫ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ২০:২৯

ভারতের মধ্যপ্রদেশে বাঁধের পিলার লাফিয়ে পার হচ্ছে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা। সম্প্রতি এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলার পালোহ গ্রামের।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় একটি বাঁধের মাঝে থাকা পিলারগুলোর একটি থেকে অন্যটিতে লাফিয়ে পার হচ্ছে।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গ্রামে গিয়েছিল বিবিসির টিম। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সাত থেকে আট বছর ধরে এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে যাচ্ছে। প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েও লাভ হয়নি।

তবে শিক্ষার্থীদের ওই ভিডিও সামনে আসার পর স্থানীয় প্রশাসন, রাজ্য সরকার এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তৎপর হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধের পিলারের ওপর লোহার পাটাতন বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, গ্রামেই নবম ও দশম শ্রেণির পাঠদান হবে। 

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ৭ আগস্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রদেশ সরকারকে নোটিশ জারি করে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পরিদর্শন সংক্রান্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন। পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

‘প্রায় চার ফুট লাফাতে হতো’
ভারতে খাল বা ছোট নদীর ওপর নির্মিত স্বল্প উচ্চতার বাঁধগুলো ‘স্টপ ড্যাম’ নামে পরিচিত। এর পাশে দাঁড়িয়ে একাদশ শ্রেণির ছাত্র দেব শর্মা বলেন, এক বছর আগে তিনি এই বাঁধের ওপর দিয়েই স্কুলে যেতেন। এজন্য তাঁকে প্রায় চার ফুট লাফাতে হতো।

বিদিশার সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) বা মহকুমা শাসক ক্ষিতিজ শর্মার দাবি, ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে তাঁর জানা ছিল না। ভিডিওটি সামনে আসার পর শিশুদেরকে কাছের বান্ধেরা গ্রামের হাইস্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে, তাদের একজন কেশব গুর্জর। দশম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর বাড়ি বাঁধ থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে। কেশব জানায়, সে ছাড়াও ভিডিওতে চারজন ছাত্রী ছিল। তারা স্কুলে যাওয়ার সময় কেউ একজন ভিডিওটি ধারণ করেন।

কেশব গুর্জর জানায়, সড়ক দিয়ে স্কুলে যেতে হলে তাদেরকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। 

অন্য গ্রামেও একই চিত্র
মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র সামনে আসছে। বিদিশা থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগর জেলার রাহলি উন্নয়ন ব্লকের বেলখড়ি কালান গ্রামে বর্ষাকালে শিশুদের স্কুলে যেতে নদী পার হতে হয়। পানির স্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা একে অন্যের হাত ধরে, জামা-কাপড় সামলে কোনো মতে নদী পেরিয়ে স্কুলে যায়।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এমন চিত্র প্রতি বর্ষাতেই দেখা যায়। রাহলি পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রবি পাটিদার বলেছেন, প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাগর থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের মান্ডলা জেলার চিত্র একটু অন্যরকম। সিংহানপুরী পঞ্চায়েতে বেশ কয়েক বছর ধরে গোয়াল ঘরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। সেখানে স্কুলের স্থায়ী কোনো ভবন নেই। গ্রামপ্রধান প্রতাপ সিং মারাভি বলেন, তিনি একাধিকবার সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও কোনো কর্মকর্তা পরিদর্শনে আসেননি। 

তবে মান্ডলা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে।

(বিষ্ণুকান্ত তিওয়ারির লেখা মূল প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে বিবিসি বাংলায়। সেখান থেকে সংক্ষেপে প্রকাশ।)

আরও পড়ুন

×