ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

১৮ শিক্ষকের মাদরাসায় ১৬ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল

১৮ শিক্ষকের মাদরাসায় ১৬ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল
×

ছবি- সমকাল

বেলাব (নরসিংদী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:২১

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার পাটুলী ইউনিয়নের সুটুরিয়া ফজলুল হক খান দাখিল মাদরাসায় ১৮ জন শিক্ষক থাকলেও ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৬ শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষকদের পাঠদানে গাফিলতি ও প্রতিষ্ঠানের যথাযথ তদারকির অভাবেই এমন ফল হয়েছে।

১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সুটুরিয়া ফজলুল হক খান দাখিল মাদরাসাটি পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৮ জন শিক্ষক কর্মরত। চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় ১৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে সাতজন ছাত্রী ও নয়জন ছাত্র। তবে ১৬ জনের কেউই পাস করতে পারেনি।

বুধবার মাদরাসাটিতে গিয়ে দেখা যায়, কাগজপত্রে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী থাকলেও ৯ম, ১০ম শ্রেণি ও প্রাথমিক শাখা মিলিয়ে উপস্থিত রয়েছে মাত্র ২০ জনের মতো। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থীই ক্লাসে আসে। শিক্ষার্থী সংকটের কারণে একটি কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান করতেও দেখা যায়।

প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১০টি শ্রেণিকক্ষ থাকলেও কয়েকটি কক্ষ জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও ভাঙাচোরা টিনের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান না করায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর পরিবর্তন আসেনি।

দাখিল পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থী সিয়ামের বাবা বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘এই মাদরাসায় কোনো শিক্ষক ঠিকমতো পড়ালেখা করান না। শিক্ষকরা গল্প করেন, যার যার মতো চলে যান। গত বছর আমার ছেলে দুই বিষয়ে ফেল করেছিল। এ বছর আবার পরীক্ষা দিয়েও ফেল করেছে। আমরা বারবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু আমাদের কথা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।’

মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থী তৌহিদ বলেন, ‘আমি ২০০৭ সালে এই মাদরাসা থেকে পড়াশোনা শেষ করেছি। তখন মাদরাসাটি খুব জমজমাট ছিল। এখন ছাত্রছাত্রী নেই, ফলাফলও খারাপ। প্রতি ক্লাসে একজন-দুজন শিক্ষার্থী পাওয়া যায়। শিক্ষকদের বসে আড্ডা দিতে দেখা যায়। পরিচালনা কমিটির পাশাপাশি শিক্ষকদেরও গাফিলতি রয়েছে।’

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমি এই ফলাফলে নিজেই হতভম্ব। কী কারণে এমন ফল হলো, তা খতিয়ে দেখছি। যারা ফেল করেছে, তাদের খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। দুটি কক্ষ দিয়ে নয়টি শ্রেণির কার্যক্রম চালাতে হয়। ৪০ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান হলেও এখনো পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। তবে আগামী বছর ১০০ শতাংশ পাস করানোর জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

বেলাব উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘এমন ফলাফল কেন হলো, তা জানতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ডেকে ফল বিপর্যয়ের কারণ এবং উত্তরণের পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষকদের অবকাঠামোগত সংকটের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গাছতলায় বসেও পড়াশোনা করলে অন্তত পাঁচ-সাতজন পাস করবে। ভবন সংস্কারের বিষয়ে আমি কথা বলব। তবে শতভাগ ফেল করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি জানান, বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বাংলা ও ইতিহাস বিষয়ে ফেল করেছে।

আরও পড়ুন

×