ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১০০ মিটার তলিয়েছে পদ্মায়

১০০ মিটার তলিয়েছে পদ্মায়
×

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মার স্রোতে ভাঙছে কাথুরিয়া-পালেরচর সড়ক। গত মঙ্গলবার কাথুরিয়া এলাকায় সমকাল

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

পানি ও স্রোত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীর তীরে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকায় শুরু হওয়া ভাঙনে ঝুঁকিতে পড়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত তীরের প্রায় ১০০ মিটার পদ্মায় তলিয়ে গেছে। গত রোববার থেকে গতকালের মধ্যে ১০টি বসতঘর ও ছয়টি দোকান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 
গত মঙ্গলবার সরেজমিন এলাকাবাসীর দুর্ভোগ-শঙ্কার কথা জানা যায়। কাথুরিয়ার বাসিন্দা লোকমান হোসেন এদিন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে থেকে তীর রক্ষার কাজ শুরু হয়নি। কয়েক মাস আগে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। এখন ভাঙন শুরু হওয়ায় আমার ঘর সরিয়ে নিতে হয়েছে। সরকার বর্ষার আগে বেড়িবাঁধের কাজ শুরু করলে হয়তো আমার বাড়িটি ভাঙনের মুখে পড়ত না।’ লোকমান জানান, আগের দিন সোমবারই তিনি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে ঘরটি সরিয়ে নিয়েছেন। ভিটাটি কতক্ষণ টিকবে, তা-ও জানেন না। 

এলাকাবাসী জানান, কাথুরিয়া এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ১০-১২ দিন আগেই ভাঙন শুরু হয়। তবে ভাঙনের গতি ছিল ধীর। ৭ আগস্ট জুমার নামাজের সময় নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। গত সোমবার সকাল থেকে বুধবার পর্যন্ত থেমে থেমে চলে ভাঙন। গতকাল সকাল পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার নদীতে তলিয়ে গেছে। 
সরেজমিন দেখা যায়, ভাঙনে কাথুরিয়া গ্রামের সঙ্গে পালেরচর বাজারের যোগাযোগের একমাত্র সড়কের বেশ কিছু অংশ নদীতে ভেঙে পড়েছে। এতে স্থানীয় লোকজনের চলাচলে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গ্রামবাসী বলছেন, হঠাৎ ভাঙন শুরু হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার শ্রমিকও মিলছে না। আব্দুর রব মাদবরের ভাষ্য, তাঁর বাড়ির পাশে মঙ্গলবার ভোররাতে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়। আশপাশের অনেকেই বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন। ভাঙন ঠেকানো না গেলে আরও অনেক বাড়িঘর নদীতে তলিয়ে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পদ্মার ভাঙন রোধে জাজিরা উপজেলায় প্রায় এক হাজার ২০২ কোটি টাকা খরচে ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পাউবো। স্থানীয় লোকজনের আশা ছিল, বর্ষা শুরুর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশের কাজ শেষ হবে। তবে কিছু অংশের কাজ এখনও শেষ হয়নি। 

পাউবো সূত্রের দাবি, প্রকল্পের একটি অংশের নকশা পরিবর্তন ও প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের অনুমোদন পেতে মন্ত্রণালয়ে অনেক সময় লেগে যায়। এতে কাজ পিছিয়েছে। প্রায় ২৬০ কোটি টাকা খরচে ওই দুই কিলোমিটার অংশের কাজ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। কাথুরিয়া এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার সংবাদে গতকাল বুধবার পর্যন্ত প্রায় চার হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে।
পালেরচর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল ফরাজী বলেন, গত শুক্রবার জুমার নামাজের আগে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়। প্রায় ২০ ফুট জায়গা পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। ১০ দিন আগে থেকেই এই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। 
জাজিরার ইউএনও আল ইমরান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে যতটুকু সহায়তা প্রয়োজন, আমরা তা করেছি। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’
শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান গতকাল সমকালকে বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন পেতে দেরি হওয়ায় কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন

×