রোমে নিহত তিন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৫১
ইতালির রোমে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত তিন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের মরদেহ পৌঁছায়। বিমানবন্দরের প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের বাড়িতে নেওয়া হয়।
গত জুনে রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে কামাল উদ্দিন বাবুল (৪৪), তাঁর স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা অরোরা ইসলাম আরিশাকে হত্যা করা হয়। হত্যার এক মাস ১৯ দিন পর তাদের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হলো। হামলায় দম্পতির ছেলে অয়ন (২০) গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তিনি বাবা, মা ও ছোট বোনের মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরেছেন।
পরিবার জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ইতালিতে প্রথম জানাজা শেষে তাদের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। শুক্রবার সকালে স্বজনরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন। বিকেলে মরদেহবাহী গাড়ি নোয়াখালীতে তাদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় শিশু নিকেতন হাইস্কুল মাঠে নিহতদের জানাজা শেষে তাদের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শুক্রবার চরকাঁকড়া এলাকার লোকজন হত্যাকারীর বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। নিহত বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে বাংলাদেশ ও ইতালির সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনিকে যে হত্যা করেছে, সেই শাহাদাতের ফাঁসি চাই। বাংলাদেশ ও ইতালির সরকারের প্রতি আমার দাবি, দ্রুত শাহাদাতকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের জুন মাসে চরকাঁকড়ার বাড়িতে ‘লাল বাহিনী’ নামে একটি চক্র চিঠির মাধ্যমে তাদের হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল।
নিহত দম্পতির ছেলে অয়ন বলেন, সন্ত্রাসী শাহাদাত হোসেন আমার বাবা, মা ও ছোট বোনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমাকেও হত্যার চেষ্টা করেছে। ভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে আছি।
অভিযুক্ত শাহাদাত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব। চার বছর আগে তিনি পরিবার নিয়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। পরে স্ত্রীর মামলায় সেখানে দুই বছর কারাগারে থাকার পর ইতালিতে চলে যান।