ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিবন্ধী যুবককে খুঁটিতে বেঁধে মারধর, দুই হাত এসিডে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ

প্রতিবন্ধী যুবককে খুঁটিতে বেঁধে মারধর, দুই হাত এসিডে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ
×

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গোলাম রসুল শেখ

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ২০:০৮ | আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০১:৫৪

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় মানসিক প্রতিবন্ধী এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর দুই হাতে এসিড নিক্ষেপে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মারধরে গুরুতর আহত অবস্থায় গোলাম রসুল শেখ (৩৮) নামে ওই যুবককে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গোলাম রসুলের বড় ভাই আব্দুল গফুর শেখ বাদী হয়ে নারী-পুরুষসহ চারজনের বিরুদ্ধে কলারোয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কলারোয়া পৌরসভার মির্জাপুর গ্রামের জিম হোসেন (২২), আফরোজা খাতুন মনি (৩৫), পপি খাতুন (৪২) ও সেকেন্দার আলীকে (৬৫) আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোলাম রসুল মানসিকভাবে অসুস্থ। মাঝে মধ্যে স্বাভাবিক থাকলেও বেশির ভাগ সময়ই তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এ অবস্থায় গত ১০ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে মির্জাপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায় আসামিদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার গতিরোধ করা হয়। পরে তাকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, এরপর আসামিরা লাঠিসোটা দিয়ে গোলাম রসুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। একপর্যায়ে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় জিম হোসেন গোলাম রসুলের দুই হাতে এসিডজাতীয় পদার্থ স্প্রে করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার দুই হাত দগ্ধ হয়। গোলাম রসুলের চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গোলাম রসুলের মা জাহানারা খাতুন বলেন, তাঁর ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ। মাঝে মধ্যে উৎপাত করেন। তখন পাড়ার লোকজন ও তিনি তাকে মারধর করেন। ঘটনার দিন আসামিরা তাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেছে বলে শুনেছেন। তিনি ঘটনাটি নিজে দেখেননি। বর্তমানে তাঁর ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে গোলাম রসুলকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখা গেছে। ভিডিওতে কয়েকজনকে তাকে একটি পাইপ দিয়ে মারধর করতেও দেখা যায়।

কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা বাপ্পী কুমার দাস বলেন, গোলাম রসুলের দুই হাত পোড়া এবং পায়ে ক্ষত ছিল। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালে বার্ন ইউনিট না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তবে জিম, মনি, পপি ও সেকেন্দার তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, ‘গোলাম রসুল প্রায়ই তাদের বাড়িতে এসে ঝামেলা করেন এবং ওপর আক্রমণ করেন। বিষয়টি আগেই থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছিল। তবে আমরা তাকে মারধর করিনি।’

এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, এ ঘটনায় গত ১০ আগস্ট গোলাম রসুলের ভাই আব্দুল গফুর শেখ থানায় চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টির সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×