ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভাণ্ডারিয়া বালিকা স্কুল

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ  আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে
×

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিক্ষিকাকে মানসিকভাবে হয়রানির প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে প্রশাসন। সহকারী শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত শেষে ঘটনার অধিকতর তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বিদ্যালয় পরিদর্শন ও তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্তকালে তিনি অভিযোগকারী শিক্ষকদের বক্তব্য শোনেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র পর্যালোচনা করেন।

অভিযোগে জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কোনো রসিদ বা ভাউচার ছাড়াই বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়, যার সঠিক হিসাব মেলেনি। এছাড়া শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুয়া ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়া, শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার ও হামিদা বেগম নামের দুই শিক্ষকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে আদায় এবং সাবেক সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অন্যান্য গুরুতর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে–নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘খণ্ডকালীন শিক্ষক’ নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে বাধ্য করা ও কমিশন নেওয়া, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং টিসির জন্য ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা। তাছাড়া বিদ্যালয়ের তহবিল যৌথ ব্যাংক হিসাবে না রেখে নিজস্ব একক অ্যাকাউন্টে লেনদেন এবং এক শিক্ষককে প্রকাশ্যে পোশাক নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগও রয়েছে। 

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সাবেক সভাপতির দায়ের করা অর্থ আত্মসাৎ মামলায় পিবিআই তদন্তেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক উত্থাপিত অনিয়মের কোনো সন্তোষজনক জবাব বা বৈধ নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাইয়ের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অসত্য। আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই।’
 

আরও পড়ুন

×