স্কুলশিক্ষার্থী নিখোঁজ, রক্তমাখা ইউনিফর্ম, পরিচয়পত্র উদ্ধার
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:১৩
গাজীপুরের কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়নের বীরউজুলী মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. তাফসিরুল ইসলাম অন্তর নিখোঁজ হয়েছে। সে ওই ইউনিয়নের ডুমদিয়া গ্রামের সোহাগ খানের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয়ের বিরতির সময়ের পর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।
ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে বিদ্যালয়ে বিরতি দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা বের হয়ে আশপাশের দোকানে টিফিন খেতে যায়। ওই সময় অন্যদের সাথে অন্তরও বিদ্যালয় থেকে বের হয়। পরে ২টা ২০ মিনিট থেকে যথারীতি শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হলেও অন্তর শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসেনি।
পরে বেলা ৩টার সময় বীরউজুলী বাজারের একজন দোকানি স্থানীয় মফিজউদ্দিনের তিনতলা ভবনের ছাদের গোডাউন থেকে মালপত্র আনতে গিয়ে রক্তমাখা প্যান্ট, জামা, জুতা ও পরিচয়পত্র দেখতে পেয়ে বিদ্যালয়ে খবর দেন। এতে শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে যান এবং অন্তরের পরিবারের কাছে ফোনে বিষয়টি জানান।
এসময় বীরউজুলী বাজারে অবস্থানরত টোক নয়নবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম ও তার সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা লোকজনের জটলা দেখে ঘটনাস্থলে হাজির হন এবং আলামতগুলো উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে অন্তরের বাবা সোহাগ খান ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলো তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।
সোহাগ খান বলেন, তিনি এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
টোক নয়নবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থীর জামা, জুতা ও পরিচয়পত্র বীরউজুলী বাজারের মফিজউদ্দিনের ভবনের তিনতলার ছাদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের সন্দেহ, এ ঘটনার সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে। তারা জানান, সম্প্রতি বীরউজুলী বাজার ও আশপাশে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রকাশ্যে চাইনিজ কুড়াল ও নানা অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন নামের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের মহড়া দিতে দেখা যায়। বিষয়টি কাপাসিয়া থানা-পুলিশকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমদ গতকাল রাতে জানান, নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থীর বাবা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যাতে সন্দেহভাজন হিসেবে কারোর নাম উল্লেখ নেই। ওসি আরও বলেন, তিনি তার টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নানা দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করেছেন। অন্তরের বন্ধুবান্ধবরাও তার সঙ্গে কারোর কোনো বিরোধের বিষয়ে তথ্য দিতে পারছে না। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ওই শিক্ষার্থী মাঝে মধ্যে তার মায়ের মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। ফোনটি ট্র্যাকিং করে কোনো সূত্র খুঁজে পাওয়া যায় কিনা তা-ও চেষ্টা করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- নিখোঁজ
- শিক্ষার্থী